Monday, January 25, 2021

অনলাইন ক্লাসে শিক্ষককে অন্য রকম বিদায়

করোনায় অন্য সব পেশার চেয়ে বিশ্বজুড়ে একটু বেশিই কঠিন সময় পার করছেন শিক্ষকরা। এর ব্যতিক্রম নন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একই সাথে হাইস্কুল ও কলেজেশিক্ষকতা করা ৫৪ বছর বয়সী অ্যাডাম শ্র‍্যাগারও।

তবে তাঁর এ কষ্টকে অনিঃশেষ আনন্দ আর বিস্ময়ে পরিবর্তন করে দিয়েছে নিউ জার্সি কলেজের শিক্ষার্থীরা৷

অ্যাডাম শ্র‍্যাগার দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির হোপওয়েল ভ্যালি সেন্ট্রাল হাই স্কুলে ও সন্ধ্যায় নিউ জার্সি কলেজে শিক্ষকতা করেন৷

প্রতিদিনকার মতো গত সপ্তাহের বুধবার সন্ধ্যাতেও শ্র‍্যাগার নিউ জার্সি কলেজের সেমিস্টারের শেষ পরিসংখ্যান ক্লাস নিতে ল্যাপটপের সামনে বসেন৷

তারপরের অভিজ্ঞতা নিয়ে শ্র‍্যাগার বলেন, “আমি ক্লাসের জন্য লগ ইন করেই দেখি মনিটর কালো স্ক্রিনের অন্ধকার হয়ে আছে৷ আমার ক্লাসে কখনোই এমন হয় না। আমার ছাত্ররা সব ক্লাসেই ভিডিও অন করে রাখে। ”

প্রাথমিকভাবে তিনি ধারণা করেন ইন্টারনেট জটিলতার কারণে এমন দেখা যাচ্ছে হয়তো। কিন্তু পরক্ষণেই তার সব শিক্ষার্থী একসাথে ভিডিও অন করে তাঁকে চমকে দেন। কারন,সেসময় তাদের সবার হাতেই ছিলো শ্র‍্যাগারকে দুর্দান্ত একজন শিক্ষক হওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্ল্যাকার্ড।

অনলাইন ক্লাসে শিক্ষককে অন্য রকম বিদায়
অ্যাডাম শ্র‍্যাগার; ছবি: বাজফিড

শিক্ষার্থীদের প্ল্যাকার্ডগুলোতে লিখা ছিলো, ‘আপনি আমার কাছে ৯৯ ভাগই সবসময়ের সেরা অধ্যাপক’, ‘সবসময়ের সেরা হওয়ার জন্য ধন্যবাদ’ এবং এই ধরনের ধন্যবাদসূচক বাক্য৷ এর বাইরে কেউ কেউ জানিয়েছে সাধারণ কিন্তু আন্তরিক ধন্যবাদ৷

এই আবেগঘন মুহূর্তটি টিকটকে ধারণ করে নেন ঐ ক্লাসেরই শিক্ষার্থী ভেরোনিকা ম্যাকক্লোজকি। কিছুক্ষণের মধ্যেই এই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায় ও প্রায় ৫০ লাখ ভিউ পায়।

তবে শ্র‍্যাগারের জন্য পুরোটাই ছিলো চমক এবং হৃদয়স্পর্শী। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের এ আয়োজনটি এত সুন্দর ছিল যে আমি খুবই অভিভূত হয়েছিলাম। আমি অহংকার করতে চাই না, তবে এই পরিবেশে ক্লাস নেওয়ার মতো কঠিন প্রচেষ্টাকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এমন স্বীকৃতি দেওয়া শিক্ষকদের প্রতি আন্তরিক বার্তা।

নিজের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এই শিক্ষক জানান তার জন্য এ স্বীকৃতি কতটা অর্থপূর্ণ।

তিনি লিখেন, “আমি আক্ষরিক অর্থেই সারাদিন কম্পিউটারের সামনে বসে থাকি আর মানুষের সাথে কথা বলি। খাতা দেখা, শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলা, অফিস করা সবই এখন কম্পিউটারে। কিন্তু শিক্ষকতা মানে শুধু এ সব করা নয়। ”

এই চমকটির উদ্যোক্তা ক্যাথেরিন দে অলিভিয়েরা বলেন, ” আমাদের এ শিক্ষক জুম ক্লাস নিয়ে তার সব জড়তা কাটিয়ে উঠতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।”

সেমিস্টারের প্রথম থেকেই তিনি খুব ইতিবাচক ছিলেন। শিক্ষার্থীদের প্রতিও ছিলেন তিনি বিশেষ যত্নবান। তিনি ভালোভাবে পর্যবেক্ষনও করতেন। যেমন আশপাশ দিয়ে অপরিচিত কেউ গেলেও তার ব্যাপারে তিনি খোঁজ নিতেন।

এই জুম ক্লাসের মাধ্যমে পুরো সেমিস্টারে আমরা একজন আরেকজনের ভাইবোনের সাথেও কথা বলেছি। কারো কারো পোষাপ্রাণী দেখেছি। আবার সবাই একসাথে দেখেছি সূর্যাস্ত।

অলিভিয়া জানান, তিনি এই ধন্যবাদ জানানোর পরিকল্পনা করেন শেষ ক্লাসের আগের ক্লাসে। তিনি নিশ্চিত ছিলেন না যে কতজন এতে অংশগ্রহণ করবে। শেষমেশ ক্লাসের সময় দেখা যায় সবার কাছেই শ্র‍্যাগারের জন্য কোনো না কোনো বার্তা ছিল।

সর্বশেষ

Leave a Reply