Monday, January 25, 2021

‘আমার মেয়েকে শিক্ষক না বানালে ফল খারাপ হবে’

ক্যাম্পাস ডেস্ক

কুবির ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষকদের হুমকি ‘আমার মেয়েকে শিক্ষক না বানালে ফল খারাপ হবে। আমার ক্ষমতা অনেক দূর পর্যন্ত।’ সিজিপিএ চারে চার দেয়ার দাবিও রয়েছে হুমকি দেওয়া এসব ইমেইলে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে একই বিভাগের এক শিক্ষার্থী ও তার আইনজীবী বাবার পরিচয় ব্যবহার করে এভাবেই লাগাতার ই-মেইলে হুমকি দেয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে এ অভিযোগ জমা দেন নিরাপত্তা কর্মকর্তা সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ছাদেক হোসেন মজুমদার।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ফার্মেসি বিভাগের এক শিক্ষার্থী ও তার বাবার পরিচয়ে খোলা দুটি ইমেইল [email protected][email protected] থেকে ২০১৯ ও ২০২০ সালের বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিল। চলতি বছরের ২ ও ৯ জানুয়ারি আবারো বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সৈয়দ কৌশিক আহমেদের ই-মেইলে অরুচিকর ও অশোভনীয় শব্দ ব্যবহার করে এবং বিভাগের শিক্ষকদেরকে ই-মেইলের মাধ্যমে কে বা কারা হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। হুমকি থেকে রেহাই পাননি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রারও।
বিভাগটির শিক্ষকেরা জানান, ওই শিক্ষার্থীকে শিক্ষক বানানোর জন্য ও সিজিপিএ চারে চার প্রদানের জন্য হুমকিগুলো দেওয়া হচ্ছে। এমনকি উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে অবস্থানরত শিক্ষকদেরও এই ইমেইল করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার প্রধান কর্মকর্তা ও অভিযোগপত্র দায়েরকারী মোহাম্মদ ছাদেক হোসেন মজুমদার বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে ইমেইলের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মৃত্যু হুমকি দেয়া হচ্ছে, আমরা আগেও থানায় জিডি করেছি তবুও এটা বন্ধ হয়নি। এ পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজস্ট্রার স্যারকেও হুমকি দেয়া হচ্ছে। পরে রেজিস্ট্রার স্যারের মৌখিক আদেশে আমরা মামলা দায়ের করেছি।’
এসব হুমকি-ধামকির ঘটনায় ফার্মেসী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সৈয়দ কৌশিক আহমেদ বলেন, ‘দীর্ঘ দিন দুইটি মেইল আইডি থেকে আমি সহ বিভাগের সকল শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে আসছে। পরিবারের সদস্যদের গুম করার হুমকি দিচ্ছে। এমন ঘটনায় আমরা দুশ্চিন্তা ও বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছি।’
এ ব্যাপারে ওই ছাত্রীর বাবা আব্দুস সামাদ বলেন, ‘আমি বা আমার মেয়ে কোনোক্রমেই এমন ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নই। আমিও এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘তারা আমাদের কাছে আবেদন করেছে মামলা করার জন্য। আমরা সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করার জন্য এজহার দাখিল করে এসেছি। গত পরশুদিন আমাদের একজন কর্মকর্তা অভিযোগ দাখিল করে এসেছেন। পুলিশ তদন্ত করে এটিকে আইনের আওতায় মামলা হিসেবে নেবে।’

সর্বশেষ

Leave a Reply