ইন্দোনেশিয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬৮

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬৮ জন। যার মধ্যে অধিকাংশই স্কুলপড়ুয়া। এছাড়া ধ্বংসস্তুপে আটকে থাকা ব্যক্তিদের খোঁজার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ২১ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে আঘাত হানে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার শক্তিশালী এই ভূমিকম্প। পশ্চিম জাভা প্রদেশের সিয়ানজুড় অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬.২ মাইল (১০ কিমি) গভীরে। যার ফলে মুহূর্তেই হাজার হাজার ঘরবাড়ি এবং কয়েক ডজন স্কুল ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। 
এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার (বাসারনাস) প্রধান হেনরি আলফায়ান্দি বলেন, নিহতদের অধিকাংশই শিশু। যারা ভূমিকম্পের সময় স্কুলে ছিল। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলের শিক্ষার্থীও রয়েছেন। 
তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তার উপরে এই গ্রামের রাস্তাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 
সেভ দ্য চিলড্রেন ও প্রদেশটির কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যমতে, প্রায় ৫১ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে ৩০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১২ টি জুনিয়র হাই স্কুল, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, পাঁচটি বৃত্তিমূলক স্কুল এবং একটি বিশেষ স্কুল রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় বিপর্যয় মোকাবেলা সংস্থার তথ্যমতে, এখনও পর্যন্ত এক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। ২২ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বাড়িঘর হারিয়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন ৫৮ হাজারেরও বেশি মানুষ।
ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটি সক্রিয় ভূমিকম্প প্রবণ এলাকার ওপর অবস্থিত। যাকে বলা হয় রিং অব ফায়ার। এর আগেও দেশটিতে বেশ কয়েকবার মারাত্মক ভূমিকম্প ও সুনামি হয়েছে। 
গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটির পশ্চিম সুমাত্রা প্রদেশে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কমপক্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৪৬০ জনেরও বেশি লোক আহত হয়েছেন। সবশেষ ২০১৮ সালে সুলাওয়েসি দ্বীপে একটি ভূমিকম্পে ২ হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়।

সর্বশেষ

Leave a Reply