Sunday, January 24, 2021

” এই নেশা মাদকের নয়; প্রকৃত সাংবাদিকতার”

আবু শাহেদ,হাটহাজারী প্রতিনিধি, দৈনিক মানবজমিন

মফস্বল এলাকায় বসবাস করে দুর্নীতি,অনিয়ম,অপরাধ নিয়ে সংবাদ করা আঞ্চলিক বা মফস্বল সাংবাদিকদের জন্য বরাবরই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ দুর্নীতি-অনিয়ম যারা করেন তারা বেশিরভাগই প্রভাবশালী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা সরকারি কর্মকর্তা। তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ করে সাংবাদিককে হামলা-মামলার শিকার, খুনের পরিণতিও বরণ করতে হয়।

অভিজ্ঞতায় এমনও দেখেছি, পেশার অনেকের সাথে কথা বলে জেনেছি, দুর্নীতির সংবাদ করে বিপদে পড়ে ঢাকায় মিডিয়ার কেন্দ্রীয় অফিস থেকেও সহযোগিতা মেলে না। উপরন্তু সম্পাদকদের বকাঝকাও শুনতে হয়।

এসব কারণে আঞ্চলিক সাংবাদিকরা পারতপক্ষে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী কলমটি আর ধরেন না। কে চায় ‘জলে বাস করে কুমিরের সাথে লড়াই’ করতে? এর চেয়ে তারা সমঝোতার নীতি মেনে চলেন। এতে ভাগের দু-পয়সা পকেটেও পড়ে। মন্দ কি?

এরপরও কিছু নাছোড়বান্দা সাংবাদিক আছেন,যারা মিডিয়া আকাশে ধ্রুবতারার মতো সততার উত্তর গোলার্ধে ধীরস্থির হয়ে জ্বলজ্বল করতে থাকেন। দেখিয়ে দেন অন্যায়,অনিয়ম,দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পথ। লিখে যান হামলা-মামলা এমনকি মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে। এরা নেশাগ্রস্ত। এই নেশা মাদকের নয়; প্রকৃত সাংবাদিকতার। এই সাংবাদিকতার নেশা যাদের আছে, তারা লিখবেই। এ দেশে এমন সাংবাদিকের সংখ্যা কম হলেও আছে এখনো। এদেরকে লিখতে দিতে হবে।

সমাজের সকল স্তর থেকে তাদের সহযোগিতা দিতে হবে। স্বচ্ছ দর্পণে নিজের মুখটি দেখতে চাইলে, তাদের কথা বলার পরিবেশ দিতে হবে। না হলে চুন-কালি মাখানো আয়নায় আর নিজেকে দেখা যাবে না।

সংবাদপত্রকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা স্বীকৃত যে চারটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, সেই স্তম্ভগুলির চার নম্বর স্তম্ভটিই হচ্ছে সংবাদমাধ্যম। বাকি স্তম্ভগুলো হলো আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ। এ কারণেই এই চতুর্থ স্তম্ভ তথা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

যে সমাজে সাংবাদিকরা নিরাপদ নয়, সেখানে জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার সীমিত হয়ে পড়ে। লঙ্ঘিত হয় সর্বজনীন মানবাধিকারও। বাধাগ্রস্ত হয় সব শুভ উদ্যোগ। দেশ ও সমাজের দারিদ্র্য বিমোচনের চেষ্টা, সুশাসনের আকাঙ্ক্ষা, শিক্ষা বিস্তার, ব্যবসা,বাণিজ্য,বিনিয়োগ, কাজের সুযোগ, জলবায়ু সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন— কোনো কিছুই আর তখন সঠিক পথে এগোতে পারে না।

সমাজকে দুর্নীতি গ্রাস করে। সে অর্থে সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতা গোটা সমাজকেই বঞ্চিত ও অরক্ষিত করে ফেলে। সেই ভীতি থেকে তৈরি হয় এক ধরনের সেলফ সেন্সরশিপ। এভাবেই সাংবাদিক গুটিয়ে ফেলেন নিজেকে। এ কারণে রাষ্ট্র-সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাংবাদিকের নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই গুরুত্ববাহী।

সর্বশেষ

Leave a Reply