• জরুল নয়ন

কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় ঘুরতে আসা পর্যটকেরা তাদের যানবাহনগুলো পার্ক করেন শালবনের সবুজ মাঠে। পর্যটকদের অসচেতনতা আর কতৃপক্ষের অপরিকল্পনায় এই সবুজ মাঠ এখন ঢেকে গেছে অজস্র প্লাস্টিকের পলিথিন, বোতল, খাবারের প্যাকেট, খাবারের উচ্ছিষ্ট, কাগজ এসবে। কিছু স্থানে ঘাসের দেখা না মিললেও দেখা মিলবে নানা জাতের-রঙের প্লাস্টিক আর পলিথিনের।

গত রবিবার (৮ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ঘুরতে আসা পর্যটকরা মাঠে বসেই নানারকম মুখরোচক খাবারসহ সাথে নিয়ে আসা নাস্তা, দুপুরের খাবার খাচ্ছেন। আর খাওয়া শেষে সেগুলোর প্যাকেটসহ উচ্ছিষ্ট ফেলে যাচ্ছেন সেখানেই।

ফেনী সাতকুচিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষাসফরে আসা শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুল করিম বলেন, ‘ময়লা ফেলা নিয়ে আমদের মতো পর্যটকরা যেমন সচেতন নই, তেমনি কর্তৃপক্ষেরও তেমন কোনো সচেতনতামূলক পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। আর মূল কথা হলো, আমরা যতদিন নিজ থেকে পরিবেশ রক্ষায় সচেতন না হবো ততদিন পদক্ষেপ নিয়েও সরকার কিছু করতে পারবে না।‘
শালবন মাঠের এক ভ্রাম্যমাণ ব্যাবসায়ী বলেন, ‘সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার মাঠ পরিস্কার করে। কিন্তু মানুষজন তো বুঝে না। তারা অভ্যাসবশতই ময়লা ফেলে। সতর্ক করেও লাভ হয় না।‘

ময়নামতি জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের মূল ব্যবস্থাপনার জায়গা হলো জাদুঘর আর শালবন বিহার। মাঠটি আমরা ব্যবহার করি শুধু গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য। তারপরও প্রতি সপ্তাহে আমরা সেটা পরিস্কার করি। তবে পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে আমরা সেটার যথাযথ ব্যবস্থাপনা করতে পারি না।‘

হাফিজুর রহমান আরও জানান, মাঠ ব্যবস্থাপনার জন্য প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে এবং তা পাশ হলে মাঠে ব্যবস্থাপনার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশে চলতি বছরের ভেতর একবার ব্যবহারযোগ্য (ওয়ান্টাইম) প্লাস্টিক নিষিদ্ধ ও ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এর বিকল্প বের করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

এছাড়াও ১৯৯৫ সালের বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৬(ক) ধারা অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি করে ২০০২ সালের জানুয়ারি থেকে দেশে পলিথিন ব্যাগের উৎপাদন, পরিবহন, মজুদ ও ব্যবহারকে নিষিদ্ধ করা হয়।

অথচ শালবন মাঠের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ জুড়ে ওয়ানটাইম প্লাস্টিকের তৈরি কাপ, প্লেট, বিভিন্ন দ্রব্য প্যাকেজিং এ ব্যবহৃত পলিথিনের মোড়ক এসবই পাওয়া গেছে।

আইন থাকার পরও এসব প্লাস্টিক দ্রব্যের ব্যবহার কেন কমছেনা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুমিল্লার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শওকত আরা কলি জানান, ‘প্লাস্টিক এর ব্যবহারের সাথে মানুষ এতো বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে যে এর ব্যবহার কমিয়ে আনা যাচ্ছেনা। শালবনের ওই এলাকা পর্যটকসমৃদ্ধ এলাকা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই এটি পরিস্কার রাখা ও নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনে ময়লা রাখার কথা। মাঠটির ব্যাপারে আমরা জানি। দ্রুতই ময়নামতি জাদুঘর কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা এ ব্যাপারে নোটিশ পাঠাবো। আর প্লাস্টিক দূষণ বন্ধে আমাদের নিয়মিত কার্যক্রম চলছে।’

/নোবেল

Leave a Reply