Monday, January 25, 2021

করোনা নিয়ে গুজব এড়াবেন যেভাবে

রিদওয়ানুল ইসলাম

করোনায় আক্রান্তদের তথ্য নিয়ে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর)। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যমের মাধ্যমে করোনা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষদের সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে বলা হচ্ছে।

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর শুরু থেকে আইইডিসিআর করোনায় আক্রান্ত রোগী এবং তাদের পরিবার-পরিজনের সামাজিক নিরাপত্তার কথা ভেবে কোনো তথ্য প্রকাশ করছেনা। সংস্থাটি এখন পর্যন্ত আক্রান্ত রোগী এবং মৃত ব্যক্তিদের কোনো বিবরণ প্রকাশ করেনি।

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু স্বল্প পরিচিত অনলাইন পোর্টালে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। গত ১৮ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগীর মৃত্যু হয়। আইইডিসিআর থেকে জানানো হয়, যথাযথ ধর্মীয় নিয়ম মেনে মৃত ব্যক্তিকে আজিমপুর গোরস্থানে দাফন করা হবে। মূল ধারার গণমাধ্যমেও তাই প্রচার করা হয়।

কিন্তু এ ঘটনার পর ১৯ মার্চ ‘ময়মনসিংহ লাইভ’ নামে একটি অনলাইন পোর্টাল বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত প্রথম মৃত ব্যক্তিকে ময়মনসিংহে দাফন করা হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করে। পোর্টালটি এ সম্পর্কিত কিছু তথ্যও প্রকাশ করে। এসব তথ্য আইইডিসিআর বা কোনো মূলধারার গণমাধ্যমও প্রকাশ করেনি।

আবার কয়েকদিন আগে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে একটি অডিও বার্তা ছড়িয়ে পরে। যেখানে এক ব্যক্তি করোনার ভয়াবহতার নামে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেয়।

এসব সংবাদ এবং অডিও বার্তাতে আতংকিত মানুষ দু-ভাগে ভাগ হয়ে পরে। কেউ বললো এটা ভুয়া সংবাদ, আবার কেউ কেউ বিশ্বাসও করতে শুরু করলো।

এছড়াও করোনা থেকে উপশম পাওয়া সংক্রান্ত ভুল তথ্যের ছড়াছড়িও রয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে, ‘একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় করোনা ভাইরাস কাজ করে না,’ ‘ভাইরাসটি মানবদেহে প্রবেশের পর চারদিন গলায় অবস্থান করে, এসময় প্রচুর পরিমানে পানি, গরম পানি, ভিনেগার বা লবণমিশ্রিত পানি পান করতে হবে’ ইত্যাদি’।

এসব ভুল তথ্য থেকে বাঁচার উপায় কি? কিভাবে বুঝবেন কোনটি ভুল আর কোনটি সঠিক?

হার্ভার্ড সামার স্কুল এসব ভুল বা ভুয়া সংবাদ শনাক্তকরণের চারটি উপায়ের কথা বলছে।

১. মিডিয়ার গ্রহণযোগ্যতা:

> কোনো একটি নিউজ সাইটের সংবাদ আপনার বন্ধুরা শেয়ার করছে মানেই সে সংবাদটি সঠিক নয়। নিজের বুদ্ধি বিবেচনা খাটান। সংবাদ মাধ্যম ও সংবাদটি সম্পর্কে আগে নিজেই নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন। প্রয়োজনে প্রথম সারির গণমাধ্যমে সংবাদটির খোঁজ করুন।

> সংবাদমাধ্যমটির ডোমেইন নেইম যাচাই-বাছাই করুন। কখনো কখনো অসাধু চক্র নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলোর ডোমেইন নেইম হুবহু নকল করে নতুন সাইট তৈরি করে গুজব ছড়াতে পারে।

> সংবাদমাধ্যমটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিন। সংবাদমাধ্যমটির প্রকাশক, লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে তাদের ‘এবাউট আস’ পড়ুন৷

> সংবাদের প্রতিবেদক সম্পর্কে জানুন৷ সংবাদ প্রতিবেদনটি প্রতিবেদকের নামসহ এলো কিনা যাচাই করুন, দেখুন প্রতিবেদক কোনো খ্যাতিমান ব্যক্তি কিনা, প্রশ্ন করুন তিনি অখ্যাত বা কম পরিচিত কোনো সংবাদমাধ্যমে লিখবেন কিনা? প্রতিবেদকের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কেবল জিমেইল এড্রেস দেওয়া কিনা?

২. সংবাদের গুনগত মান ও সংবাদ প্রকাশের সময়ের দিকে লক্ষ্য করুনঃ

> প্রকাশিত সংবাদের বানানের দিকে খেয়াল করুন। বানানে অতিমাত্রায় ভুল থাকলে সেসব সংবাদ এড়িয়ে চলুন। কারণ, প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলো বানান ও ব্যাকরণ চর্চায় যথেষ্ট গুরুত্ব প্রদান করে।

> যাচাই করুন প্রকাশিত সংবাদটি চলমান ঘটনা কিনা? সতর্ক হোন অপ্রাসঙ্গিকভাবে ছড়িয়ে পড়া সংবাদের ব্যাপারে।

৩. সংবাদের উৎস ও বক্তব্য যাচাই-বাছাই করুনঃ

সংবাদটি আপনি কোথায় পাচ্ছেন সে বিষয়ে সচেতন হোন। সংবাদটি যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পান অথবা এমন কোনো মাধ্যমে পান যারা ‘ক্লিক’ ব্যবসার জন্য এমন করতে পারে বলে আপনার জানা অথবা সংবাদটি আপনার বন্ধু কর্তৃক শেয়ারকৃত তবে সেসব সংবাদের ব্যাপারে সচেতন হোন।

> সংবাদে কাদেরকে উদ্ধৃত করা হয়েছে এবং তাদের বক্তব্য কি যাচাই করুন। কোনো জটিল ইস্যুতে উদ্ধৃত ব্যক্তি ও তার বক্তব্যে ভারসাম্য না থাকলে বুঝবেন সে সংবাদে ভেজাল আছে।

> তথ্যগুলা অন্য কোনো সংবাদমাধ্যম বা কোনো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে বিদ্যমান কিনা যাচাই করুন। যদি না পান তবে সে তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলুন।

> একই কথা প্রযোজ্য সংবাদের ছবির ক্ষেত্রেও । তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে যে কেউ ফটোশপ ব্যবহার করে তৈরি করতে পারে ভুয়া ছবি৷ তাই যা দেখছেন সেটাই বিশ্বাস না করে প্রশ্ন তুলুন, যাচাই করুন।

৪. ফ্যাক্ট চেক করুনঃ
সংবাদ ঘটনাটি সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হতে ব্যবহার করতে পারেন বিভিন্ন ফ্যাক্ট চেকিং ওয়েবসাইট।
FactCheck.org, International Fact-Checking Network (IFCN), PolitiFact.com, Snopes.com. ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য ফ্যাক্ট চেকিং ওয়েবসাইট।

সর্বোপরি, হুজুগে গা না ভাসিয়ে নিজের বুদ্ধি বিবেচনাকে কাজে লাগান। নিজে নিরাপদ থাকুন, আপনার আশেপাশের মানুষদের নিরাপদ রাখুন।

সর্বশেষ

Leave a Reply