‘কিছু না’ দিবসে আপনি কি কিছু করছেন?

ফাতেমা রহিম রিন্স

কর্ম ও জীবন যেন একটি আরেকটির সম্পূরক। প্রতিদিনই আমরা কিছু না কিছু করে থাকি জীবনের তাগিদের। আবার অনেকেই আছেন যারা দিন শেষে হিসাব মেলাতে বসে পড়েন আজ কি করলাম আর কি করলাম না।

প্রতিদিনের এই কিছু না কিছু করাকে ছুটি দিতে ১৯৭৩ সাল থেকে প্রতিবছর ১৬ই জানুয়ারি পালিত হয়ে আসছে ‘নাথিং ডে’ অর্থাৎ ‘কিছু না’ দিবস। আক্ষরিক অর্থে সারাদিন কিছু না করার এই দিবসটি পালনের প্রস্তাব রাখেন আমেরিকান কলামিস্ট হ্যারল্ড কফিন।

কিছু না করার এ ধারণা বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করার জন্য তিনি নাথিং অর্গানাইজেশন নামে একটি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠা করলেও এখন পর্যন্ত এই সংগঠনটি একটি মিটিং পর্যন্ত করে উঠতে পারেনি।

মৌলিকভাবে ‘কিছু না’ করা দিবসটি হচ্ছে নিত্যদিনের কাজকর্ম থেকে বছরের একটা দিন কাজের বাইরে থাকার একটা বিদ্রোহ।

তবে দর্শন শাস্ত্র অনুযায়ী এই দিনটি নিয়ে একটা মজার প্রশ্ন হচ্ছে আসলেই কি কিছু না করে সময় কাটানো যায়?

এ নিয়ে বিজেএমই ইউনিভার্সিটি অফ ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থী শাহরিন রহমান এ্যানি বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিনই আমাদের অনলাইন ক্লাস থাকে। তবে আজকে নেই।

তাই আজ শুধু খাওয়া, ঘুম, সিরিজ দেখা ছাড়াও প্রাত্যহিক কাজকর্ম করা হবে। তবে এসব ও একটা কাজ। এতেও শক্তি ব্যয় হয়।

তাই বলতে পারি ‘কিছু না’ দিবস বাহ্যিকভাবে কিছু না করলেও সবকিছুই কোনো না কোন ভাবে কিছু করার মধ্যেই পড়ে।’

এই দিনে কিছু করছেন কি-না জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কামরুন নাহার ইমু বলেন, ‘কেউ একজন আমাকে জিজ্ঞেস করলো আমি কি করি? তখন উত্তর দিলাম বসে আছি। ধৈর্য ধরে বসে থাকাটাও একটা কাজ।

আবার দেখা গেলো আমি কিছুই করলাম না, কিন্তু আজকে আমার কিছু কাজ ছিলো “কিছু না” দিবস উপলক্ষে করছি না।

এই যে কিছু করছি না এই কাজটা আগামী দিনের কাজের সাথে মিলে একটা ডাবল কাজ তৈরি করবে।

যা নিয়ে আমি ইতোমধ্যে চিন্তা শুরু করলাম। এতে আমি মেন্টালি টেনসড হয়ে গেলাম এটাও কিছু করার মধ্যেই পড়ে।

মূলত কিছু না করা ছাড়া ‘কিছু না’ দিবস পালন করা যায় না। কিছু না কিছু করতেই হবে।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার নোবেল বলেন, ‘কিছু না দিবসে কিছু না করার পরিকল্পনা করলেও কিছু না করা থেকে রেহাই পাই নি। পরীক্ষা উপলক্ষে অনেকগুলো সংজ্ঞা মুখস্ত করছি।’

তাই হয়তো ‘দ্যা রিয়েলিস্টিক সোসাইটি’ বাস্তববাদের দিক তুলে ধরতে ‘নাথিং ডে’ এর বিপক্ষে ‘দেয়ার হ্যাজ অলওয়েজ বিন সামথিং ডে’ তুলে ধরেন।

যদি সত্যিকারে ‘কিছুই না’ থাকতো তবে সেখানে ‘কিছু’ কি থাকতো এই যুক্তি পেশ করেন সংস্থাটি এবং এ হিসেবে ‘কিছু না’ দিবসটিও পালন অর্থবহ হতো না।

তাছাড়া বছরের এই এক দিনই হোক না কেন এই একটা দিন কিছুই না করে দিন পার করা ব্যক্তিরা এলিয়েন ছাড়া আর কিছু নয়।

“কিছু না” দিবস সম্পর্কে ঢাবি শিক্ষার্থী আশরাফুল হাসিব অয়নের কাছে জানতে চাইলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ‘আজ যদি ‘কিছু না’ দিবস হয় তবে আপনি ‘কিছু না’ দিবস নিয়ে রিপোর্ট কেন করছেন?’

সর্বশেষ

Leave a Reply