Tuesday, January 19, 2021

কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাসে তরুণীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২

কুমিল্লা ডেস্ক

কুমিল্লায় ‘তিশা প্লাস’ নামে একটি যাত্রীবাহী বাসে এক তরুণীকে আটকে গণধর্ষণের মামলায় বাসের চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার দুইজন হলেন, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার নেউরা গ্রামের বাসচালক আরিফ হোসেন সোহেল ও ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার কামিনারবাগ গ্রামের হেলপার বাবু শেখ।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভুক্তভোগী তরুণীর চিকিৎসা, ডাক্তারী পরীক্ষা ও আদালতে জবানবন্দী নেওয়ার পর বুধবার রাতে তার মায়ের হেফাজতে দেয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার আবদুল্লাহপুরে তার চাচাতো বোনের বাসা থেকে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে গত সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার সময় সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল হতে তিশা প্লাস পরিবহনের একটি বাসযোগে কুমিল্লা শহরের শাসনগাছার উদ্দেশে রওনা করেন।

ওই তরুণী বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে শাসনগাছা বাস স্টেশনে  নামিয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানালেও সেখানে তাকে না নামিয়ে কৌশলে বাসটি পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের আল-শাকিল হোটেলের সামনে নিয়ে যায়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার বাসের মাঝে ওই তরুণীকে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে বাসের হেলপার বাবু শেখ (২২), চালক আরিফ হোসেন সোহেল (২৬) ও সুপারভাইজার চান্দিনা উপজেলার আটচাইল গ্রামের কবির মিয়ার ছেলে আলম (৩২) ধর্ষণ করে। পরে, বাসের চালক আরিফ হোসেন সোহেল বাস থেকে নেমে চলে গেলে বাসের হেলপার বাবু শেখ ও সুপারভাইজার আলম তরুণীকে বাস থেকে নামিয়ে পদুয়ার বাজার এলাকায় বাস হেলপার বাবু শেখের বসতঘরে নিয়ে পুনরায় ধর্ষণ করে।

পরে ওই তরুণী মোবাইল ফোনে বিষয়টি তার মাকে জানালে মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে তার মা বাদী হয়ে ওইদিন তিনজনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় গণধর্ষণের অপরাধে মামলা দায়ের করেন।

তরুণীর মা গণমাধ্যমকে জানান, ওই তরুণী গাজীপুরের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করত। গত শুক্রবার চাকরির সন্ধানে বাড়ি থেকে ঢাকায় গিয়ে জেঠাতো বোনের বাসায় ওঠে। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে এ ঘটনার শিকার হয়।

এদিকে তিশা প্লাস পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দুলাল হোসেন অপু বৃহস্পতিবার জানান, ঘটনার পর তারা তিশা প্লাস গাড়ির (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৩৯৮) চালক ও হেলপারসহ দুই আসামিকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর জানান, মামলা দায়েরের পর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাবু শেখ ও আরিফ হোসেন সোহেলকে গ্রেফতার করে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া মামলার ভিকটিম ওই তরুণীর ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি আদালতে ঘটনার বিবরণ জানিয়ে জবানবন্দী দিয়েছেন। মামলার অপর আসামি আলমকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 

 

সর্বশেষ

Leave a Reply