Monday, January 25, 2021

ক্রীড়াবিশ্ব ২০২০-এ যাদের হারালো

আর মাত্র কয়েক ঘন্টা, তারপরেই অস্তাচলে হারিয়ে যাবে এই দশকের শেষ সূর্যটি। সেই সঙ্গে ইতি টানবে ২০২০ সালের যাত্রা। শুরু হবে নতুন বছরকে আমন্ত্রণের সব প্রস্তুতি। কিন্তু সে প্রস্তুতিতে থাকবেন না অনেক কিংবদন্তি৷

ক্রীড়া জগতের এমন কয়েকজন কিংবদন্তি নিয়ে এমসিজে নিউজের আয়োজন ক্রীড়াবিশ্ব ২০২০-এ যাদের হারালো।

ডিয়েগো ম্যারাডোনো

ফুটবল জগতের কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার জন্ম দরিদ্র পরিবারে, ৩০ অক্টোবর ১৯৬০ সালে। কিন্তু পরবর্তী জীবনে তিনিই হয়েছিলেন বিশ্ব ফুটবলের রাজা৷ মাত্র ১৬ বছর ১২০ দিন বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় তাঁর। এরপর বিশ্ব ফুটবল কেবল জয়গানই গেয়েছে।

আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি এই ফুটবলারের অর্জনে রয়েছে ঘরোয়া ফুটবলের ৯টি শিরোপা। যার মধ্যে ১টি বোকা জুনিয়র্সের হয়ে, ৩টি বার্সেলোনার হয়ে এবং ৬টি নাপোলির হয়ে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আঙ্গিনায় নিজের ঝুলিতে পুরেছেন ৩টি শিরোপা৷ যার মধ্যে ১৯৮৬ ফিফা বিশ্বকাপ অন্যতম।
আর ব্যক্তি ম্যারাডোনার অর্জনে রয়েছে ১৯৮৬ সালে গোল্ডেন বল এবং ১৯৯০ সালে ব্রোঞ্জ বল সম্মাননা।

তবে ব্যক্তি জীবনে ফুটবলের রাজা ম্যারাডোনা ছিলেন কিছুটা ছন্নছাড়া। নিষিদ্ধ হয়েছিলেন মাদক পরীক্ষায়। তবে সবকিছু ছাপিয়ে এই ফুটবল জগতের নক্ষত্রের পতন হয় ২৫ নভেম্বর ২০২০।

আলেসান্দ্রো সাবেলা

এ বছরটা যেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের জন্য শোকের বছর৷ কিংবদন্তি ম্যারাডোনা ছাড়া দেশটি এ বছর হারিয়েছে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের মধ্য মাঠের খেলোয়াড় আলেসান্দ্রো সাবেলাকে।

জাতীয় দলের পাশাপাশি খেলোয়াড়ী জীবনের অধিকাংশ সময় রিভার প্লেট, লা প্লাতার হয়ে৷

এরপর খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টেনে ২০০৯ সালে সাবেলা লা প্লাতার ম্যানেজারের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে ম্যানেজার হিসেবে ফুটবল জগতে নতুন যাত্রা শুরু করেন।

আর্জেন্টিনার হয়ে ম্যানেজার হিসেবে ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপের রানার-আপ করেছিলেন। ডিয়েগো ম্যারাডোনার শোক শেষ না হতেই ৮ ডিসেম্বরে ৬৬ বছর বয়সী আলেকসান্দ্রো সাবেলা না ফেরার দেশে পাড়ি জমান৷

পাওলো রোসি

ইতালির ক্লাব ইয়ুভেন্তাসের আক্রমণভাগের খেলোয়াড় পাওলো রোসি। স্থান পেয়েছিলেন ফিফার প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উপলক্ষে প্রকাশিত ফিফা ১০০ তালিকায়।

১৯৮৬ সালের ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য পাওলো রোসি মারা যান আলেসান্দ্রো সাবেলার একদিন পর, ৯ ডিসেম্বরে।

বাদল রায়

আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বাইরে দেশের ফুটবলও হারিয়েছে বেশ কজন ক্রীড়া ব্যক্তিত্বকে৷ এদের মধ্যে
বাদল রায় অন্যতম।

দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফুটবল তারকা ১৯৮১ ও ১৯৮৬ সালে মোহামেডানের অধিনায়ক ছিলেন।

১৯৮৬ সালে টানা তিন বছর পর মোহামেডানের লিগ জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন বাদল রায়।

খেলা ছাড়ার পর মোহামেডানের ম্যানেজার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন সাবেক এই তারকা ফুটবলার। ২২ নভেম্বর ২০২০ জীবনাবসান ঘটে এই সাবেক ফুটবল তারকার।

নুরুল হক মানিক

বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন মিডফিল্ডার
নুরুল হক মানিক। ১৯৮৭-১৯৯৭ সাল, এই দশ বছর জাতীয় দলে জার্সি ছিল তাঁর গায়ে। ঢাকার ফুটবলে মানিক অধিনায়ক ছিলেন চারটি দলের।

১৯৮৭ সালে আরামবাগ, ১৯৮৮ ইয়ংমেন্স, ১৯৯১ ব্রাদার্স ও ১৯৯৫ সালে মোহামেডানের।

মানিক ছিলেন তাঁর সময়ে দেশের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার। এই মিডফিল্ডার মাঠের ফুটবলের বাইরে জীবদ্দশায় দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কোচ হিসেবেও। সর্বশেষ ছিলেন যুব ফুটবল দলের কোচ।

আবাহনীর জার্সি গায়ে অতিথি খেলোয়াড় হিসেবে একটি ম্যাচ খেলেছেন এশিয়া কাপ উইনার্স কাপে, কলকাতা ইস্টবেঙ্গলের বিপক্ষে ঢাকায়। ১

বাংলাদেশের সোনালী সময়ের এই ফুটবল কিংবদন্তি মারা যান জুনের ৪ তারিখে।

কোবি ব্রায়ান্ট

কোবি ব্রায়ান্ট ছিলেন একজন বিখ্যাত মার্কিন বাস্কেটবল খেলোয়াড়। ১৯৭৮ সালে ২৩ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন ।

তিনি ন্যাশনাল বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশন (এনবিএ) এর লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্স দলের হয়ে ১৯৯৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত টানা ২০ বছর খেলেছেন।

তিনি স্কুলে থাকাকালীন সময়েই এনবিএতে যোগ দেন এবং খেলোয়াড়ি জীবনে লেকার্সের হয়ে পাঁচবার এনবিএ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেন। তিনি ২০০৮ ও ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে অলিম্পিকে সোনাও জিতেছিলেন। ২০১৬ সালের এপ্রিলে তিনি অবসরে যান।

কিংবদন্তি এই মার্কিন বাস্কেটবল খেলোয়াড় মারা যান ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারিতে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায়।

সম্পাদনায়: হুমায়রা কবির

সর্বশেষ

Leave a Reply