Sunday, January 24, 2021

গবেষণায় ভারত পাকিস্তানের চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ

বাংলাদেশি গবেষকরা গত বছর পুরোটা মিলে ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর বিশিষ্ট ( ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর, জার্নালের গুরুত্ব মূল্যায়নে ব্যবহৃত পদ্ধতি) আন্তর্জাতিক জার্নালে আট হাজারের বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে তৃতীয়।

প্রথম অবস্থানে থাকা ভারতের গবেষকরা এই সময়ে প্রকাশ করেছেন ১ লাখ ৯৯ হাজারের বেশি গবেষণাপত্র আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা পাকিস্তানের গবেষকরা প্রকাশ করেছেন ২৮ হাজার গবেষণাপত্র।

সায়েন্টিফিক বাংলাদেশ নামের একটি অনলাইন ম্যাগাজিন বৈজ্ঞানিক জার্নাল, বই ও পিয়ার- রিভিউড সাহিত্য বিষয়ক ডাটাবেইজ স্কোপাসের ডাটা বিশ্লেষণ করে গত ২ জানুয়ারি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের গবেষকরা গত বছর ১৬০ টি পিয়ার-রিভিউড এবং ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর বিশিষ্ট জার্নালে ৮ হাজার ১৪০ টি নিবন্ধ এবং অন্যান্য নথি প্রকাশ করেছেন। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৩৬৩ টি এবং ২০১৮ সালে ছিলো ৫ হাজার ২৩৪ টি।

বাংলাদেশী গবেষকদের ৮ হাজার ১৪০ টি গবেষণার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ১৮৬ প্রকাশিত হয়েছে এবং ৯৫৪ টি এখনো প্রকাশনার অপেক্ষায় রয়েছে৷

গবেষকদের করা গবেষণাগুলোর মধ্যে শীর্ষ তিনটি বিষয় হলো মেডিসিন বিষয়ক ২ হাজার ১৭৩ টি, প্রকৌশল বিষয়ক ১ হাজার ৮২৪ টিএবং কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ক ১ হাজার ৫৮১ টি।

বিশ্ব জুড়ে চলমান করোনার জন্য ২০১৯ সালের তুলনায় গত বছর চিকিৎসা সম্পর্কিত প্রকাশনা প্রকৌশল সম্পর্কিত বিষয়কে ছাড়িয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়৷

যেসব জার্নালে বাংলাদেশী গবেষকদের সবচেয়ে বেশি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে লস ওয়ান (Plos One), সায়েন্টিফিক রিপোর্টস , হেলিয়ন (Heliyon), আইইইই এক্সেস, বিএমজে ওপেন, রেজাল্ট ইন ফিজিক্স, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড পলিউশন রিসার্চ।

গবেষণায় বাংলাদেশের কোন প্রতিষ্ঠানের কততম অবস্থান?

সায়েন্টিফিক বাংলাদেশের এ প্রতিবেদন অনুযায়ী ৭৬০ টি গবেষণা নিয়ে শীর্ষ অবস্থানে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ( ২০১৯ সালের তুলনায় ১০০ বেশি)।

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ৫১০ (২০১৯ সালের চেয়ে ১০০ এরও বেশি কম)।

৪৬৫ টি গবেষণা নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ৪৩৭ টি গবেষণা নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।

গত বছর গবেষণাপত্র প্রকাশের দিক থেকে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআর, বি। প্রতিষ্ঠানটি গত বছর ৪১৮ টি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে।

অপরদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শীর্ষ দশে রয়েছে।

তালিকায় থাকা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

সায়েন্টিফিক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী সম্পাদক ডঃ মনির উদ্দিন আহমেদ বলেন, “যদিও গবেষণার সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে এসব দেশের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির পক্ষে যথেষ্ট কম।

ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় আমাদের প্রকাশনা খুবই কম। আর গত বছর আমরা মাত্র একটি পেটেন্ট পেয়েছি বিপরীতে ভারত পেয়েছে ২৭৬ টি পেটেন্ট।

এছাড়া যেসব বাংলাদেশীর গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে তাদের বেশির ভাগই প্রবাসী। আর গবেষণা তহবিলও বেশিরভাগ বিদেশী সংস্থা থেকে আসে। এর অর্থ হলো আমাদের নিজস্ব গবেষণা সংস্থাগুলো পর্যাপ্ত গবেষণা প্রকাশ করছে না। ”

তিনি আরও বলেন, ‘এ থেকেই প্রমাণিত হয় যে, অনেক বাংলাদেশী গবেষণার উদ্দেশ্যে বিদেশে যাচ্ছেন।’

/আর আস, আর আই

সর্বশেষ

Leave a Reply