গুইসাপটি অসাড় পড়ে ছিল

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের পাশে অসাড় পড়েছিল গুইসাপটি। আশপাশ দেখে বুঝা যায় বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এটিকে। খেলার মাঠে যাওয়ার সময় এভাবে পড়ে থাকতে দেখেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ১৫ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান পাপ্পু।

তিনি বলেন, খেলার মাঠে যাওয়ার সময় দেখি কারা যেন সাপটিকে মেরে ফেলে রেখেছে । নিজের খারাপ লাগা থেকেই ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করি। এমন ঘটনা যেন আর ঘটনা না ঘটে এটাই প্রত্যাশা করি।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলী আহসান বলেন, ছবিটি আমাকে খুবই মর্মাহত করেছে। আমরা সবাই জানি যে, গুইসাপ বাংলাদেশের একটি বিপন্ন বন্যপ্রাণী। এটি খুব নিরীহ একটি প্রাণী এবং মানুষের ক্ষতি তো দূরে থাক, বরং মানুষ দেখে দৌঁড়ে পালিয়ে যায় এবং নানাবিধ উপকার করে থাকে। আর এভাবে একটি প্রাণীকে পিটিয়ে মারা বাংলাদেশের আইনে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমি প্রশাসনকে অনুরোধ করবো, যারা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা। পাশাপাশি প্রাণীকুলের প্রতি নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন নানাবিধ উদ্যোগ নেওয়া।

গুইসাপটির উপর এমন নির্মমতায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃতি বিষয়ক সংগঠন অভয়ারণ্যের সভাপতি সাজ্জাদ বাশার বলেন, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুইসাপের ভূমিকা অতুলনীয়৷ গুইসাপ বিষধর সাপ ও ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফসলের ফলন যেমন বৃদ্ধি করে, তেমনি খাদ্যশৃঙ্খলেও বিশেষ ভূমিকা রাখে৷ এসব জেনেও অতি উৎসাহী কিছু মানুষ গুইসাপ মেরে ফেলে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় এমন ঘটনা সত্যিই অপ্রত্যাশিত ।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করার জন্য বাংলাদেশে দুটি আইন আছে। একটি হলো ২০১২ সালের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন। সর্বশেষ সংশোধিত আইনটিতে বন্য প্রাণী হত্যার দায়ে এক বছর কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান আছে। অন্য আইনেও কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান আছে। কিন্তু দুটি আইনই ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে; বস্তুত দেশের অধিকাংশ মানুষেরই এ দুটি আইন সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই।

/আসিফ

সর্বশেষ

Leave a Reply