Thursday, December 3, 2020

তোতলানো বালকটি আজ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট

হুমায়রা কবীর

বাগজড়তার জন্য যে বালকটিকে নিয়ে এক সময় করা হতো ঠাট্টা, সেই বালকটিই আজ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

১৯৪২ সালে পেন্সিলভ্যানিয়াতে জন্ম নেওয়া আমেরিকার নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কৈশোর অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে। বাবা ছিলেন পেশায় ব্যবসায়ী। বেড়ে ওঠা একটা ছোট্ট বাসায় যৌথ পরিবারে।

এসবের মধ্যেও ছোটবেলায় বাইডেনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বাগজড়তা কাটিয়ে ওঠা। বাগজড়তার জন্য স্কুলে প্রায়ই তিনি সবার হাসির পাত্রে পরিণত হতেন।

পড়তে গিয়ে তার বাগজড়তার জন্য সহপাঠীরা তো ছিলই, সেই সাথে শিক্ষকরাও একসময় তাকে নিয়ে মজা করতেন।

সেসব দিনের কথা স্মরণ করে বাইডেন তার এক স্মৃতিকথায় লিখেছেন, “এখনও আমার মনে আছে সেই যন্ত্রণার কথা, লজ্জা রাগ আর অপমানের দিনগুলোর কথা।”

যদিও তিনি এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পেরেছিলেন তবে এর জন্য তাঁর অনেক সময় লেগে গেছিল।

এজন্য তিনি কখনো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শান্তভাবে কবিতা আবৃত্তি কিংবা কখনও সংযতভাবে কথা বলা আয়ত্তের অনুশীলন করতেন। এভাবে এক সময় হাই স্কুল পার হবার পর তিনি বাগজড়তা কাটিয়ে বাকপটু হয়ে উঠেন।

যদিও কথা বলায় বাইডেনের একটু সমস্যা ছিল কিন্তু ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন তুখোড় ফুটবল এবং বেসবল খেলোয়াড়।

এভাবে হাই স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে একসময় তিনি পড়তে যান ডেলাওয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রথমে ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন সাইরাক্যুজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেই পরিচয় হয় প্রথম স্ত্রী নেলিয়া হান্টারের সাথে। সে পরিচয় পরিণয়ে গড়ায় ১৯৬৬ সালে।

শৈশব থেকেই নিজের সাথে নিজে লড়াই করে বেড়ে ওঠা বাইডেনের ব্যাক্তিগত জীবন ছোট একটা ট্র্যাজেডি বই যেন। কারণ, তার রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় তিনি তার স্ত্রী নেলিয়া ও তার কন্যা নাওমিকে হারান। মারাত্মক আঘাত নিয়ে ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরে আসেন দুই পুত্র সন্তান।

তোতলানো বালকটি আজ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাথে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

এই ঘটনা বাইডেনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। এই ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে এতোটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন যে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দিতে উদ্ধুদ্ধ হন।

কিন্তু পরে দলের জোরাজুরিতে হাসপাতালেই সিনেটর পদে শপথগ্রহণ করেন। পরে তিনি ১৯৭৭ সালে পেশায় শিক্ষক জিল জেকবসকে বিয়ে করেন এবং কন্যা সন্তান আ্যশলির পিতা হন।

এতবার বাধার সম্মুখীন হয়েও আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন। আর এ উঠে দাঁড়ানোতে বাইডেনকে অনুপ্রাণিত করেছে তাঁর বাবার শিক্ষা৷

বাইডেন তাঁর বাবার অনুপ্রেরণা নিয়ে বলেন, “বাবার একটা কথা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা। তিনি বলতেন, “কে তোমাকে কতবার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল, সেটা বড় কথা নয়, কত দ্রুত তুমি উঠে দাঁড়াতে পারলে, মানুষ হিসাবে সেটাই হবে তোমার সাফল্যের পরিচয়।”

এত সজীব প্রাণ মানুষটির রাজনীতিতে পথচলা শুরু
নগর পরিষদের একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জেতার মধ্যে দিয়ে।

১৯৭২ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে ডেলাওয়ারে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান সিনেটর কেলেব গবসের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে লড়েন বাইডেন৷

অর্থের অভাব, রাজনীতির মতো বিস্তর পরিসরে কোনো রকম হাতেখড়ি ছাড়াই পারিবারের সহায়তায় এবং মাঠপর্যায়ে প্রচারণা চালিয়ে গবসকে পরাজিত করেন বাইডেন৷

রাজনৈতিক জীবনে জো বাইডেন তখন সফল তরুণ। মাত্র ৩০ বছর বয়সে দুই মেয়াদে সিনেটর থাকা রিপাবলিকান প্রার্থীকে হারিয়ে তিনি সিনেটে আসন জয় করেছেন।

তোতলানো বালকটি আজ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট
তরুণ বয়সে বাইডেন

ওই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের যেখানে ভরাডুবি হয়েছে, সেখানে তার এই অভাবনীয় জয়ের পর রাজনীতির অঙ্গনে তিনি তখন হয়ে উঠেছেন ডেমোক্র্যাটিক দলের সম্ভাবনাময় তরুণ।

তবে আগেই উল্লেখ করেছিলাম বাইডেনের জীবন যেন একটা ছোট ট্রাজেডি বই। সেই বইয়ে আবার ট্র‍্যাজেডি ফিরে আসে ২০১৫ সালে পুত্র সন্তান হারানোর মাধ্যমে। ভাইস-প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ব্রেন টিউমারজনিত জটিলতায় তিনি তাঁর পুত্র জোসেফকে হারান৷

পরের বছর ২০১৬ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসাবে লড়ার পরিকল্পনা থাকলেও পরিবারকে সময় দিতে নির্বাচন থেকে সরে আসেন বাইডেন৷

এর আগে ১৯৮৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে অংশগ্রহণ করলেও প্রাইমারি নির্বাচনের আগেই নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন৷ কিন্তু সিনেটর হিসাবে কাজ করে যান তিনি৷

বিশ বছর পর ২০০৮ আবার নতুন করে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হবার লড়াইয়ে নেমেছিলেন মি. বাইডেন। তখন তিনি রাজনীতিতে আর নতুন কোনো তরুণ মুখ নন, তিনি একজন প্রবীণ রাজনীতিক। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতীক হিসাবে ২০১৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁকে ‘প্রেসিডেনশিয়াল মেডাল অফ ফ্রিডম’ প্রদান করেন৷

বাইডেনের প্রায় ৫০ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়াই করেছেন তিনবার। দীর্ঘ ৪০ বছরের লালিত স্বপ্ন অবশেষে পূরণ হল তৃতীয় বারের প্রচেষ্টায়।

আমেরিকার ৫৯তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক পপুলার ভোট আর ২৭০টিরও বেশি ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে বিজয়ী জো বাইডেন। আর এভাবে জীবনের নানা উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে জো বাইডেন আজ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।

সর্বশেষ

তানিনের পাশে ‘জাগ্রত মানবিকতা’

ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তানিন মেহেদীর চিকিৎসার জন্য অর্থ সহযোগিতা প্রদান করেছে জাগ্রত মানবিকতা (Humanity Alive)।বুধবার (...

এমন শীত যেন ক্যাম্পাসে আর না আসে

গতবার শীতের শেষবেলায় বন্ধ হয়েছিলো বিশ্ববিদ্যালয়। এরপর বছর ঘুরে আবারও শীত এসেছে। কিন্তু ক্যাম্পাস খুলেনি। আর তাই ঘরে বসেই শীতের সময়ের ক্যাম্পাসের স্মৃতি...

কুবিতে চূড়ান্ত পরীক্ষার দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ

ক্যাম্পাস ডেস্কচূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে এবার প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচী ও বিক্ষোভ করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। ২ ডিসেম্বর (বুধবার)...

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্বাচন আয়োজন না করার অনুরোধ

ক্যাম্পাস ডেস্ক চলমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন্ন শিক্ষক সমিতি নির্বাচন আয়োজন না করার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। গতকাল...

সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা

দেশের ১৯টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই গুচ্ছের অধীনে মানবিক, বাণিজ্য ও বিজ্ঞান এ...

Leave a Reply