Monday, January 25, 2021

ধর্ষণে নারীর দোষ খুঁজে বেড়ানো একেকজন সম্ভাব্য ধর্ষক

ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে দেখি, কিছু লোক নারীর চালচলন, চলাফেরা ইত্যাদির রুলস রেগুলেশন আওড়ে নারীর ওপর দোষ চাপাতে থাকে।

এ সংক্রান্ত কিছু অসুস্থ লেখা ফেসবুকে দেখলাম।

দেশের আইন অনুযায়ী, অপরাধ সংঘটিত হলেই কেবল অপরাধী ধরা যায়। আগে নয়।

তবে আইন এটাও বলে, অপরাধের পরিকল্পনা, নির্দেশ ও প্রস্তুতিও অপরাধ। তাই দেখি, খুনের পরিকল্পনাকারী বা ডাকাতি বা অন্য অপকর্মের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় অনেককেই গ্রেপ্তার করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

কথা হচ্ছে, পোশাক, চলাফেরা ইত্যাদির অশ্লীল, বিভ্রান্তিকর আর কুরুচিপুর্ণ বক্তব্য দিয়ে বা লিখে অনেকেই নির্লজ্জভাবে ধর্ষণে উৎসাহিত করে যাচ্ছে দিনের পর দিন।

মানে, সমাজে ধর্ষণ নামে যে অপরাধ তার পরিকল্পনা, নির্দেশ আর প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে এ লোকগুলোর বক্তব্য আর লেখালেখি পরোক্ষভাবেই ভূমিকা রাখছে।

যেমন ধরুন, ওই ছাত্রীর ধর্ষক অপেক্ষায় ছিল, একা একটি মেয়ে হেঁটে যাবে আর তাকে মুখ চেপে ধরে নিয়ে গিয়ে অমানবিক আর হিংস্র নির্যাতন চালাবে।

এবার কোথাও হয়তো কেউ নারীর চালচলন আর চলাফেরার বিবরণ দিয়ে কোথাও দেদারছে বক্তব্য দিয়ে নারীকে দোষারোপ করে যাচ্ছে। কেউ হয়তো কোথাও লিখে চলেছে, ধর্ষণে দায়ী ড্রেস।

এই এদের মুখ আর কলম দিয়ে যখন একবার ধর্ষকের কথা আসে না, নারী নিপীড়নের কথা বলা হয় না, তখন ধর্ষক ওই লেখা আর বক্তব্যে আশ্রয় পায়, উস্কানি পায়, উৎসাহ পায়।

বিশদভাবে খতিয়ে দেখলে দেখা যাবে, ড্রেস নয়, চালচলন নয় বরং ওই লেখা আর বক্তব্যে ধর্ষক সবচেয়ে বেশি উদ্দীপনা পেয়েছে আর পেয়ে যাচ্ছে।

চালচলন যা-ই হোক আইন অনুযায়ী একজন নারী কোনো অপরাধ করছেন না। বরং চালচলনের ওপর ফোকাস করে তাকেই দোষী করে দেওয়া বক্তব্য আর লেখাই ধর্ষণ আর নিপীড়নের মতো অপরাধকর্ম ঘটাচ্ছে।

চালচলন আপনার ভালো লাগে কি লাগে না আপনার ব্যাপার। এমনকি তাকে পাপী বান্দাও মনে করেন। সমস্যা নাই।

কিন্তু আইন অনুযায়ী, যে কথাগুলো বলা আর লেখা হয়, ওইসব কিছুই বলে না, নারী অপরাধী। আর যেহেতু অপরাধী নন, তাই, চালচলনের দোহাই দিয়ে তার ওপরই ঘটে যাওয়া অপরাধের দায় দেওয়া শুধু বর্বরতাই নয়, বরং আইন অনুযায়ী অপরাধ।

আমি জানি না, ধর্ষক খুঁজতে চিরুণি অভিযান চলে। কিন্তু এ অপরাধীদের কেন ধরা হয় না?

অথচ আইনগত ব্যাখ্যায় এরাও সেই পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা আর প্রস্তুতিগ্রহণকারীর মতোই অপরাধী।

এদের ধরা হোক

এখুনি…

মনে রাখবেন, ধর্ষণে নারীর দোষ খুঁজে বেড়ানো এ লোকগুলোই সমাজে ধর্ষণের মাস্টারমাইন্ড, একেকজন সম্ভাব্য ধর্ষক…

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ধর্ষণ সংস্কৃতি নিয়ে
এ লেখাটি লিখেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক কাজী আনিছ।

সর্বশেষ

Leave a Reply