পানিবন্দী পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় সিলেটের কুবি শিক্ষার্থীরা


কাল পরীক্ষা, দুশ্চিন্তায় পড়ালেখাও করতে পারছি না। এ সংকটপূর্ণ সময়টায় এত দূরে অসহায় লাগছে। মজুদ করে রাখা পানি আর মোবাইলের চার্জও শেষ হওয়ার পথে। কতক্ষণ তাদের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারব জানি না।

এভাবেই নিজের অসহায়ত্বের বর্ণণা দিচ্ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সিয়াম চৌধুরী। সিলেটের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে অনেকের মতো তার পারিবারও বন্যার পানিতে ঘরবন্দী হয়ে পড়েছেন।
তিনি তার পরিবারের সর্বশেষ পরিস্থিতি উল্লেখ করে এমসিজে নিউজকে বলেন, নগরীর উঁচু এলাকাগুলোর একটিতে আমার বাসা। সেখানকার পথঘাটেও বন্যার পানি। পরিবার দোতলায় থাকে বলে পানি না উঠলেও আমার অসুস্থ বাবা-মা দীর্ঘক্ষণ ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছেন।
মজুদ করে রাখা পানি আর মোবাইলের চার্জও শেষ হওয়ার পথে। কতক্ষণ তাদের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারব জানি না।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সদ্য ভর্তি হওয়া সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ এলাকার আরেক শিক্ষার্থী একা তালুকদার তার পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, বাড়ির লোকজন শুধু নিরাপদ আশ্রয়ে আছেন। মা-বোনকে মুভ করিয়ে পাশের বিল্ডিং এ নিয়েছি। খাবার পানি,শুকনা খাবারের অভাব বোধ করছে যেহেতু বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি নাই।
পরিবার থেকে দূরে থাকা এই শিক্ষার্থী বলেন, এই পরিস্থিতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। এর থেকে ওখানে স্ট্রাগল করতাম তাও মানসিক শান্তি পেতাম। আগামীকাল পরীক্ষা, দুই দিন ধরে পড়া, খাওয়া, কিচ্ছু হচ্ছে না।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া সিলেটের বিশ্বনাথ থানার আরেক শিক্ষার্থী তাজুল হক তানভীর। তিনি জানান, আমার ভাইয়ের পাওয়ার ব্যাংক ছিল তাই এখনও আমি যোগাযোগ করতে পারছি। তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কাল হয়তো যোগাযোগ করা যাবে না। পুরো গ্রামে বিদ্যুৎ নেই। গ্রামের অন্য সবাই তাদের পরিবারে সাথে যোগাযোগ করতে পারতেছে না।
তিনি তার বাড়ির সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান,বাড়িতে এখন হাঁটু সমান পানি, পানি কমছেও না বাড়ছেও না। বৃষ্টি বেশি হওয়াতে পানি ধীরে ধীরে বেড়ে যাওয়ার আশংকা আছে। গ্রামে যাদের দোতলা বাড়ি আছে সেখানেই গ্রামের সবাই অবস্থান নিচ্ছে।
তিনি আরোও বলেন,এ বিপদের সময়টার গ্রামে ডাকাত দলের উৎপাত বেড়েছে। অনেকের ঘরের জিনিসপত্র লুটপাট হচ্ছে। ফ্যামিলি থেকে দূরে থেকে আমার চিন্তা হচ্ছে। কুমিল্লা যারা আছি আমরা সবারই প্রায় একি পরিস্থিতি। পরিবার থেকে এখন বাড়িতে যেতে নিষেধ করছে।
উল্লেখ্য,ইতিমধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া সিলেটের শিক্ষার্থীদের সংগঠন জালালাবাদ এসোসিয়েশন বন্যা কবলিত মানুষের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে।

সর্বশেষ

Leave a Reply