‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণায় অনভিজ্ঞ ব্যক্তির নিয়োগ আমলাতান্ত্রিক আগ্রাসন’

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে একজন অতিরিক্ত সচিবকে নিয়োগ প্রদান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণায় অনভিজ্ঞ ব্যক্তির নিয়োগকে আমলাতান্ত্রিক আগ্রাসন উল্লেখ করে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

আজ শনিবার সংগঠনটির সভাপতি ড. মো: শামিমুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় তারা৷

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা অত্যন্ত বিস্ময় ও উদ্বেগের সাথে জানাচ্ছি যে গত ৫ই মে ২০২১ খ্রি. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পি আর এল ভোগরত একজন অতিরিক্ত সচিবকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রদান করে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ৮ মে ২০২১ খ্রি. শনিবার কার্যনির্বাহী কমিটির এক জরুরী সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ নিয়োগকে প্রত্যাখান করে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি রাজনৈতিক ও আদর্শিক সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় একটি শিক্ষা ও গবেষণাধর্মী স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। জ্ঞান বিতরণ ও জ্ঞান সৃষ্টির মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ জাতি গঠনে ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয় তথা শিক্ষকগণ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদসমূহ শিক্ষকতা ও গবেষণায় অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদদের দ্বারা পরিচালিত না হওয়া মানে উচ্চশিক্ষাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া।

তাছাড়া স্বায়ত্তশাসনের মূলমন্ত্র অনুযায়ী উক্ত পদগুলোতে শিক্ষকদের আসীন করাই প্রত্যাশিত ও স্বাভাবিক।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি তাদের বিবৃতিতে আরও বলে, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে একজন অতিরিক্ত সচিবকে নিয়োগ মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের উপর আমলাতান্ত্রিক নগ্ন হস্তক্ষেপ ও উচ্চশিক্ষা ধ্বংসের নীলনকশা।

প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এর তত্ত্বাবধানে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গত প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত প্রভূত অগ্রগতি সাধিত হয়েছে এবং তা এখনও চলমান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বিভিন্ন সময় নানাবিধ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এর সঙ্গে শিক্ষকদের সাথে দূরত্ব তৈরি করার এক ধরনের সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র করছে।

বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য অভিন্ন নিয়োগ ও পদোন্নতির নীতিমালা প্রণয়ন, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাননীয় উপাচার্য এর রুটিন দায়িত্ব পালনে একজন কর্মকর্তা নিয়োগ ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত সচিবকে পদায়ন শিক্ষক সমাজকে মর্মাহত করেছে ও গোটা শিক্ষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে যা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামগ্রিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

আমরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি একজন অতিরিক্ত সচিবকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগাদেশ বাতিলপূর্বক প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।

পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার নিমিত্তে শিক্ষকতা ও গবেষণায় অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পদায়নে বিরত থাকার অনুরোধ করছি।

সর্বশেষ

Leave a Reply