বিশ্ববিদ্যালয়ে আমলা বেমানান যেভাবে

কাজী আনিছ

আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমলাদের আগমনের বিরুদ্ধে না।

আসেন, কথা বলি।

‘প্রশাসন’ শব্দ শুনতে যা বোঝায়, বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে প্রশাসন তেমনটা নয়। হ্যাঁ, এখানে শাসন কাঠামো আছে, হিসাব নিকাশ আছে, নীতিনির্ধারণ আছে, প্রশাসনিক কার্যক্রম আছে।

সাদা চোখে এসব কাজে একজন আমলাকে যথাপোযুক্ত মনে হবে। স্বাভাবিক। অনেকে তা মনে করছেনও। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমলা নিয়োগের নেপথ্যে একেই যুক্তি দেওয়া হচ্ছে।

সব ঠিক আছে৷ কিন্তু ভুলটা হচ্ছে, সব প্রশাসনের প্রায়োগিক ও কেন্দ্রীয় ক্ষেত্রের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রের আকাশ পাতাল ব্যবধান।

এখানকার প্রধান ক্ষেত্র গবেষণা। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা আর প্রশাসনিক কার্যক্রের সম্পর্ক এক ও অভিন্ন। তাই, প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দরকার শিক্ষকই, পেশাগতভাবেই যার প্রধান কাজ গবেষণা।

আরেকটি কাজ শিক্ষাদান, যার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্ব ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আমলা নিয়োগ হলে হিসেব নিকেশ আর হরেক নীতিমালা প্রণয়ন হবে ঠিকই, কিন্তু আসল যে কাজ তথা গবেষণা আর শিক্ষার সঙ্গে ওই কাজের কোনো আন্তসম্পর্ক তৈরি হবে না৷

কারণ, একজন আমলা ‘প্রশাসনিক’ কাজে শতভাগ দক্ষ হতে পারেন, কিন্তু গবেষণা, শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্ব অনুধাবনসম্পর্কিত প্রশাসনিক কাজে একদম বেমানান।

আবারও বলছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে কেবল ‘প্রশাসন’ শব্দ দেখে বিচার করলে মারাত্মক ভুল হবে। চরম ভুল হবে, এই সরলরৈখিক বিচারের মাধ্যমে আমলা নিয়োগ দিলে।

অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ধারণাগত, উদ্দেশ্যগত, কার্যক্রমগত এবং প্রায়োগিক দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

শুরুতেই বলেছি, আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমলাদের আগমনের বিপক্ষে না।

তবে, আমি সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের নিয়োগের বিপক্ষে। তাঁরা আসবেন লোক প্রশাসন বিভাগের কোনো একটি কোর্সে বা সেমিনারে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একদিন তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে।

আমিও ‘আমলা যখন নিউজ সোর্স’ বা ‘সাংবাদিক-আমলা সম্পর্ক:প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ এমন কোনো বিষয়ে কাউকে আমন্ত্রণ জানালাম। তিনি বক্তব্য রাখলেন।

অর্থাৎ আমলারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল জ্ঞানের সাগরে এক ক্ষুদ্র বিন্দু যোগ করতে পারেন কেবল।

কিন্তু পুরো সাগরকেই নিয়ন্ত্রণ করতে দেওয়া ঠিক হবে না৷ এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণে তো বটেই, সঙ্গে আমলাদের মঙ্গলার্থেও।

বিশ্ববিদ্যালয় মানে জ্ঞানের মহাসাগর। এই সাগরের কিনারা কোথায়, আছে কি না তা তারাই জানে বা খোঁজে বেড়ায়, যারা নিয়ত এখানে সাঁতার কাটছে…

সাঁতার কাটেনি এমন কাউকে এখানে নামাতে নেই…
বিপদটা তখন সাগরের না, হবে তাঁরই…


উল্লেখ্য, গত ০৫ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবদুল মাননানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি যিনি বর্তমানে পি আর এলে আছেন।

আরও পড়ুন:

নন-একাডেমিক ব্যক্তিকে নিয়োগের প্রতিবাদ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের

সর্বশেষ

Leave a Reply