শত চেষ্টাতেও সরানো যাচ্ছে না আটকে পড়া জাহাজটিকে


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে জাহাজ চলাচলের অন্যতম দ্বার সুয়েজখালে পঞ্চম দিনের মতো আটকে আছে দৈত্যাকার জাহাজ ‘এভার গিভেন’। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নানা চেষ্টাতেও আটকে পড়া জায়গা থেকে এক চুলও সরানো যায়নি জাহাজটিকে।
সুয়েজ খালের মাঝ বরাবর বিশালাকার এই জাহাজ আটকে পড়ায় খালের দুই প্রান্তে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ জাহাজ জট। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা।
যেভাবে আটকে যায় জাহাজটি
এভার গিভেন কতৃপক্ষ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার হঠাৎ করেই জোরালো বাতাসে প্রায় ২০ হাজার কন্টেইনার নিয়ে গন্তব্যে রওনা হওয়া জাহাজটি ঘুরে খালের আড়াআড়ি দুই পাড়ের মাঝে বালুতে আটকে যায়। বড় আকারের এই জাহাজটি সুয়েজ খালের দক্ষিণ প্রবেশমুখ থেকে কয়েক মাইল দূরে এভাবে আটকে যাওয়ায় এই রাস্তাটি অন্যান্য জাহাজ চলাচলের জন্য একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে।
উদ্ধারকাজ ভেস্তে যাচ্ছে বারবার  
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক খবরে বলা হয়েছে, জাহাজটি উদ্ধারে কারিগরি তৎপরতা চালানো প্রতিষ্ঠান ‘বার্নহার্ড শুল্টে শিপ ম্যানেজম্যান্ট’ এর শুক্রবারের সকল প্রচেষ্টা ভেস্তে গেছে। তাদের পরিকল্পনা ছিল জাহাজটি থেকে পানি সেচে জাহজটিকে হালকা করে এটিকে সরিয়ে নেওয়ার। এই পরিকল্পনা কাজে না আসায় তাদের আরও দুইটি দল রবিবারে তাদের সাথে যোগদান করার কথা রয়েছে।
সুয়েজ খালের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা জোয়ারের সর্বোচ্চ সুবিধাটুকু কাজে লাগিয়ে জাহাজটিকে সরিয়ে নিতে চান। সেজন্য তাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।
জাহাজটির জাপানি মালিকানা প্রতিষ্ঠান শোই কিসেনের প্রেসিডেন্ট ইউকিটো হিজাকি জাপানে প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ১০ টি টাগবোট ও অসংখ্য কর্মী ড্রেজিং করে জাহাজটিকে সরানোর চেষ্টা করছিলো। কিন্তু, জোয়ার চলে যাওয়ায় নাব্যতা কমে জাহাজটি আবার আটকে গেছে।
সুয়েজের দুই প্রান্তে বড় জাহাজ জট
এই জাহাজ আটকে যাওয়ার ঘটনায় সুয়েজ খালের দুই প্রান্তে সৃষ্টি হয়েছে স্মরণকালের অন্যতম বড় জাহাজ জট। খাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,  শনিবার নাগাদ প্রায় ২৮০ টি জাহাজ সুয়েজ খালের দুই প্রান্তে আটকে ছিল। অনেক জাহাজকেই রাস্তা বদলে ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। ফলে বাড়ছে পরিবহন ব্যয়। যার প্রভাব পণ্যের দামে পড়তে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
/এস এন

সর্বশেষ

Leave a Reply