সীতাকুণ্ডের অভিজ্ঞতা জানালেন কুবির দুই রোভার স্কাউটস

ক্যাম্পাস ডেস্ক
জাহিদুল ইসলাম
গত শনিবার, ৪ জুন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের পর সেখানে রাসায়নিক ভর্তি কনটেইনারের ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
দুর্ঘটনার পর আহতদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ডাক্তার, নার্সদের পাশাপাশি যোগ দেন বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা। এরই অংশ হিসেবে সোমবার, ৬ জুন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউটস গ্রুপের চার সদস্যের একটি টিম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগ দেন।
হাসপাতালে অগ্নিদগ্ধ মানুষের পরিস্থিতি বর্ণনা করে ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী সিনিয়র রোভারমেট আব্দুর রহমান বলেন, হাসপাতালে অগ্নিদগ্ধ মানুষগুলোর শারিরীক অবস্থা বর্ণনা করার মতো না৷ কারো হাত নেই,কারো পা,কারো মুখ দেখে চেনা যাচ্ছিল না। আসলে এই মূহুর্তটা খুবই কষ্টদায়ক ছিল।
এ কাজে যোগদানের বিষয়ে তিনি বলেন,বিস্ফোরণের দিন বিভিন্ন নিউজে যখন দেখি যে এতো ভয়াবহ অবস্থা মানুষগুলোর। তখন নিজেদেরকে আটকে রাখাটা খুবই কষ্ট হচ্ছিলো। তারপর একটা টিম গুছিয়ে চলেই গেলাম। যাওয়ার পরে চট্টগ্রাম জেলা রোভারের সাথে সমন্বয় করে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করি।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে গার্ল ইন রোভারমেট সুবাহ্ ইয়াসমিন বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেলে সবকিছুই এখন প্রশাসনের কন্ট্রোলে। পুলিশ, আর্মি, বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তারাই এখন সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। আমরা গিয়েছি আমাদের দায়িত্ববোধ থেকে ন্যাশনাল ক্রাইসিসে মানুষের পাশে দাঁড়াতে। সেখানে সাধারণ মানুষ নিজেদের সাধ্যমত চেষ্টা করছে। ছোট ছোট স্কুল শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সকলেই খাবার নিয়ে আসছে এবং জেলা প্রশাসন থেকে যে সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে সেখানে জমা দিচ্ছে।
রোভার স্কাউটসের দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি আরোও বলেন,ঘটনার প্রথমদিন যখন সব কিছু রক্তাক্ত,একের পর এক রোগী হাসপাতালে এসেছে, তখন লাশ ঘরে লাশ রাখা থেকে শুরু করে রোগীদের প্রাথমিক প্রতিবিধানে সাহায্য করা, তাদের যেকোনো প্রয়োজনে ছুটে যাওয়া সব দায়িত্বই রোভাররা পালন করেছে।
উল্লেখ্য,ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালে রোভার স্কাউটস সহ স্বেচ্ছাসেবী অন্যান্য সংগঠন সাধারণ মানুষকে দিকনির্দেশনা, ঔষধ, পানি,প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহের কাজ করেছেন।

সর্বশেষ

Leave a Reply