হার্ভার্ডের ছায়া জাতিসংঘে আমার চারদিন


হার্ভার্ড ন্যাশনাল মডেল ইউনাইটেড নেশনসের এক ভার্চুয়াল অধিবেশনে অংশ নিয়েছিলেন ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টসের (ইউল্যাব) শিক্ষার্থী দীপ্ত চক্রবর্তী। এমসিজে নিউজের কাছে চারদিনব্যাপী এই অধিবেশনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি।

  • দীপ্ত চক্রবর্তী
যখন থেকে বুঝতে শিখেছি, তখন থেকেই মনে আলাদা দাগ কেটে নিয়েছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। হার্ভার্ড ন্যাশনাল মডেল ইউনাইটেড নেশন্স এর চারদিনব্যাপী সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে বাংলাদেশের সমস্যা তুলে ধরার সুযোগ এসে যায় আমার সামনে।
চারদিনব্যাপী এই ভার্চুয়াল সম্মেলনে ৩৩ টি দেশের ২৫০০ জন প্রতিনিধির এই মিলনমেলা হয়ে উঠেছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় এমইউএন সম্মেলন।
এইচএনএমইউএন এ ডিসারমামেন্ট এন্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে জাতিগত সহিংসতা বিশেষ করে রোহিঙ্গা ইস্যু আমি বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়েছিলাম।
কমিটি সেশনের প্রথম দিনেই আমি আমার টপিকের উপর ভোট পেয়ে বিতর্ক শুরু করি। আমি সত্যি খুব অবাক হয়েছিলাম প্রতিনিধিদের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং দক্ষতা দেখে।
খুব সম্ভবত আমি একমাত্র সৌভাগ্যবান ব্যক্তি যে কিনা সুযোগ পেয়েছিলাম ইয়েল ইউনিভার্সিটি এবং প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করার যারা গবেষণায় ও প্রেজেন্টেশনে দুর্দান্ত।
কমিটি সেশনের দ্বিতীয় দিন ছিল খুবই ব্যস্ততায় ঠাসা যেহেতু আমাদের সমস্যা সমাধান করার তাড়া ছিল। আমরা আবারও বিতর্ক শুরু করলাম এবং ড্রাফট রেজুলেশন এর জন্য ওয়ার্কিং পেপার লিখা শুরু করলাম।
ওয়ার্কিং পেপার হচ্ছে যে পেপারে প্রতিনিধিরা সমস্যা সমাধানের জন্য আইডিয়া দিয়ে থাকে। আমরা আমাদের ওয়ার্কিং পেপার প্রস্তুত করলাম যার মাধ্যমে জাতিগত সহিংসতা সমস্যার সমাধানের করা যাবে। এবং আমাদের ওয়ার্কিং পেপারটি বিপুল ভোটে অধিবেশনে পাস হয়।
প্রতিনিধিদের জন্য সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মুহূর্ত ছিল ইন্টারন্যাশনাল ককটেল আওয়ার। যেখানে সবাই অনানুষ্ঠানিক একে অপরের সঙ্গে মতবিনিময় করার সুযোগ পেয়েছিলো।
আমার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ম্যাথিউ ডিকি (বর্তমানে কাজ করছেন বিজনেস আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে) তার সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগ হয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মিথষ্ক্রিয়ার সুযোগ হয়েছে।
আমরা নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করার এবং একে অন্যকে জানার সুযোগ পেয়েছিলাম। বলতেই হয় নিঃসন্দেহে ইন্টারন্যাশনাল ককটেল আওয়ার পুরো অনুষ্ঠানের মধ্যে সবচাইতে আকর্ষণীয় ইভেন্ট ছিলো।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইউনেস্কোর সাবেক মহাপরিচালক ইরিনা বোকেভা। তিনি তার কর্মজীবনে বেশকয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ পদে দায়িত্বরত ছিলেন। বক্তৃতা চলাকালীন খুবই নম্র, বাক্পটু এবং বাস্তবুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন।
তিনি তরুণ নেতাদের উৎসাহিত করতে বলেন, বর্তমান বিশ্বে সমস্যাগুলোর সমাধানে একযোগে কাজ করতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যশেষে এক পর্যায়ে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। আমেরিকান এবং ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা তাদের দুর্দান্ত কাজের জন্য পুরষ্কৃত হয়েছে। এইভাবেই পর্দা নামলো আমার এইচএনএমইউএন এর প্রাণোচ্ছ্বল সফরের।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংস্পর্শে আমি নিজেকে খুবই আলোকিত একজন মানুষ মনে করতে পারছি।
হুমায়রা/এস এন

সর্বশেষ

Leave a Reply