হুইলচেয়ারটাই তার দোকান

ইমতিয়াজ রিফাত
কিশোর নয়ন। চলাফেরার সক্ষমতা আর দশজন সাধারণ মানুষের মতো না। তার সাথে পরিবারেও দারিদ্র। ভাত-কাপড়ের টাকা নিয়েই থাকতে হয় হিমশিমে। সেখানে ওষুধপত্র কেনার টাকা ভারী এক বোঝা।
চলার সাথী একটা হুইলচেয়ার। সেই হুইলচেয়ারকেই আয়ের উৎস বানিয়ে নিয়েছে সে। হুইলচেয়ারের সাথে বাঁশ বেধে তাতে চিপস, আচার, চকলেটসহ নানা খাবার সামগ্রী বিক্রির ব্যবসা করছে নয়ন। সেখানে যা আয় হয় তা দিয়ে তার ওষুধ আর টুকটাক প্রয়োজন মেটে।

এগারো বছরের কিশোর নয়ন মিয়ার বাবা নূর আলম জানান, নয়নের দুই পাসহ ডান হাত অচল। নিজের পক্ষে একা চলাফেরা সম্ভব নয়। তার চিকিৎসার জন্য ছোট থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে বিভিন্ন ডাক্তার কবিরাজের পেছনে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। সংসারেও টানাপোড়েন। এখন তো মানুষ ভিক্ষাও দেয় না। ভিক্ষা করতে গেলে মানুষ নানান কথা বলে। তাই এমন ব্যবস্থা।

বাবা-মার চার ছেলেমেয়ের মাঝে নয়ন দ্বিতীয়। তার বড় ভাই দশম শ্রেণিতে পড়ে। নয়ন পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত স্থানীয় ব্রাক স্কুলে পড়েছে৷ কিন্তু করোনার সময় ঐ স্কুলটি বন্ধ হয়ে যায়৷ এরপর আর তার স্কুলে যাওয়া হয়নি৷
পড়ালেখা করার ইচ্ছে তার আছে। সে জানায়, আমার পড়ালেখা করতে ইচ্ছে করে। কিন্তু বাড়ির পাশের স্কুলটা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর পড়া হলো না। হাঁটতে পারি না তাই দূরের স্কুলে তো আমি যেতে পারি না।
হুইলচেয়ারে বসা নয়নকে প্রায়ই দেখা যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, শালবন বিহার কিংবা বৌদ্ধ মন্দিরের ফটকে। বাবা বা মা এসে তাকে দিয়ে যায়। প্রতিদিনের বেচাকেনায় নয়নের আয় হয় তিন থেকে চারশো টাকা। যা দিয়ে তার ওষুধসহ অন্যান্য খরচ চলে।
নয়ন সরকারী কোনো সুযোগসুবিধা পায় কী না জানতে চাইলে নয়নের বাবা বলেন, প্রতিবন্ধী ভাতা হিসেবে বছরে চার হাজার দুইশত টাকা পাই। এটা দুইবারে ভাগ করে দেয়। এই দিয়ে কী আর একজন মানুষের খরচ চলে। তার (নয়নের) তো ওষুধের খরচই লাগে আরও বেশি টাকার।
নয়নের বাবা স্বপ্ন দেখেন, একটু আর্থিক সঙ্গতি হলে তিনি নয়নকে একটা মোটরচালিত ভ্যান বানিয়ে দেবেন৷ তা দিয়ে নয়ন কিছু একটা করে স্বাবলম্বী হবে।
/এস এন

সর্বশেষ

Leave a Reply