পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আটকে থাকা পরীক্ষা; সমাধান অনলাইন না অফলাইনে?

বর্তমানে দেশের করোনা মহামারীর পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম গতিশীল রাখতে অনলাইন পরীক্ষা পদ্ধতিকে বৈধতা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রনালয়।

গত ২৪ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের (মাউশি) সচিব মো. মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক সভায় দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পরীক্ষাগুলো অনলাইনে আয়োজনের জন্য সুপারিশ করতে পৃথক পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে।


কিন্তু অনলাইনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ কতটা ফলপ্রসূ, এ প্রক্রিয়ায় সবার মূল্যায়ন কি যথাযথ হবে কিংবা সবার অংশগ্রহণ কি নিশ্চিত করা সম্ভব? এ নিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা মত। তাদের সাথে কথা বলে সেসব মতই তুলে ধরেছেন ফাতেমা রহিম রিন্স।


 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. সিয়াম সরকার বলেন, অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে বলে আমি মনে করি না। আর এটি খুব একটা ফলপ্রসূও হবে না। তার মতে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০% শিক্ষার্থী গ্রামের। ফলে ইন্টারনেট খুবই কমন ব্যাপার। ক্লাস করাই যেখানে কঠিন, সেখানে পরীক্ষা কিভাবে দিবে?

ঠিক তেমনটাই বলেছেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার। তিনি বলেন, পাবলিক ইউনিভার্সিটির ৫০% শিক্ষার্থীই অস্বচ্ছল। হাতে মোবাইল থাকলেও ইন্টারনেট এবং কম্পিউটারের সমস্যা থেকেই যায়। এ হিসেবে পরীক্ষা দেওয়াটা কঠিনই হয়ে দাঁড়ায়।

অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষপাতি নন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহিয়ান আক্তার মৌলি। ডিভাইস, নেটওয়ার্ক সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনলাইন যে ক্লাসগুলো নেওয়া হয়েছে সেখানে শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশের অংশগ্রহণ ছিল না। ফলে অনেকেরই শেখা হয়নি কিছুই।

সুতরাং, এই পরিস্থিতিতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে যত দ্রুত সম্ভব সরাসরি পরীক্ষা নেওয়াই উত্তম। নয়তো বিশাল এক সেশনজটে পড়ে ভবিষ্যত জীবন হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করেন তিনি।

অনলাইন পরীক্ষায় সঠিকভাবে মূল্যায়ন হয় না উল্লেখ করে ঢাবির আরেক শিক্ষার্থী আরিফুন নাহার শাকিলা বলেন, আমাদের মিডটার্ম গুলো অনলাইনে হচ্ছে, তবে ফাইনাল পরীক্ষাগুলো অনলাইনে না নেওয়াই ভালো। কারণ অনলাইনে গড় মার্ক পায় সবাই এবং এতে ভালোভাবে মূল্যায়নও হচ্ছে না।

একই যুক্তিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্যাম্পাসে পরীক্ষা নেওয়াকে অধিক গ্রহণযোগ্য মনে করেন হাবিপ্রবির শিক্ষার্থী মো. আবু নাঈম।

তবে অনলাইনে সঠিকভাবে পরীক্ষা নিতে হলে উন্নত মানের সফটওয়্যার(ফাইভারের সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম এবং তার সাথে প্রমাণের জন্য ওয়েব ক্যাম ব্যাবহার করা) এর সঠিক ব্যবহার করা, নির্দিষ্ট সময়ের প্রশ্ন পত্র দিয়ে আর উত্তরপত্র জমা নেওয়ার জন্য সময় বেধে দেওয়া এবং জমা শেষে ঐ পরীক্ষার দিনেই পরীক্ষার্থীদের থেকে সাক্ষাৎকার নিয়ে যাচাই করার কথা বলেন নোবিপ্রবির শিক্ষার্থী আরমান আহমেদ শাওন।

আরও পড়ুন:

বিশ্ববিদ্যালয়ে কি অটোপ্রমোশন সম্ভব?

তাছাড়া কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীর ডিভাইস সমস্যা ও নেটওয়ার্ক সমস্যার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক, তা যেন শিক্ষার্থীবান্ধব হয়।

তবে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়াকে সমর্থন করে চবি শিক্ষার্থী মেহেদী মিলু বলেন, চুয়েটে চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা অনলাইনে নিচ্ছে। সেশন জট কমাতে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার বিকল্প নাই।

আশেপাশে তাকালেই আমরা বুঝতে পারবো প্রায় ৯০% শিক্ষার্থী অনলাইনে ক্লাস বা পরীক্ষা দিতে সক্ষম। তবে বাকি ১০% শিক্ষার্থীর ব্যাপারে তিনি বলেন, বাকি ১০% এর জন্য সফট লোন তো রয়েছেই।

অনলাইনে পরীক্ষার ক্ষেত্রে গবেষণা সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে আলাদা মূল্যায়ন করে অনলাইন পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষপাতী চবির আরেক শিক্ষার্থী কামরুন নাহার ইমু।

তিনি বলেন, অনলাইনের পরীক্ষা আর অফলাইনের পরীক্ষা কখনো সমতুল্য হতে পারে না। তবে এখন যেহেতু সবকিছুই অনিশ্চিত। তাই এভাবে বছরের পর বছর অনিশ্চয়তাই না থেকে কিছুটা আগানো ভালো।

এক্ষেত্রে উচ্চতর শিক্ষার গবেষণার বিষয়গুলোকে আলাদা মূল্যায়ন করে অন্যান্য পরীক্ষাগুলো অনলাইনে নেওয়া যায়। অবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার পর না হয় থিসিস ও গবেষণার বিষয়গুলোর পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে।

/রিদ

সর্বশেষ

Leave a Reply