নন-একাডেমিক ব্যক্তিকে নিয়োগের প্রতিবাদ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নন-একাডেমিক ব্যক্তিকে কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন।

শুক্রবার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. ফরিদা ইয়াসমিন বারী ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. মোঃ নিজামুল হক ভূঁইয়ার স্বাক্ষরে এ বিবৃতি দেয় সংগঠনটি৷

বিবৃতিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তাকে (অতিরিক্ত সচিব) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের আদেশ প্রদানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। পাশাপাশি  এই নিয়োগাদেশ বাতিলপূর্বক প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও দাবি জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ০৫ মে, ২০২১ তারিখের একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে মোহাম্মদ আবদুল মাননানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু মোহাম্মদ আবদুল মাননান অধ্যাপক নন, তিনি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব। যিনি বর্তমানে পি আর এল ভোগরত অবস্থায় রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যায়ের ধারনা, স্বায়ত্তশাসনের মর্মবাণী অনুযায়ী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদগুলোতে শিক্ষকদের আসীন করাই প্রত্যাশিত ও স্বাভাবিক।

নন-একাডেমিক ব্যক্তিকে নিয়োগের প্রতিবাদ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত কোষাধ্যক্ষ পদের নিয়োগ আদেশ

কিন্তু বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে প্রশাসন ক্যাডারের পি আর এল ভোগরত একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়াতে আমরা বিস্মিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ।

এ ঘটনাকে দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের চরম অবজ্ঞা এবং দায়িত্বহীনতার পরিচয় বলে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন বলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার আগে থেকেই যথাসময়ে পদগুলো পূরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করার ঘটনা ইতোপূর্বেও পরিলক্ষিত হয়েছে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার যেভাবে দেশকে উন্নয়নের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে সেখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে অবিবেচিতভাবে দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন নিয়োগ দিয়ে জাতির কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

আমরা মনে করি, এমন একটি প্রতিষ্ঠিত বিষয়ে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পদগুলোতে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের মধ্যে থেকে নিয়োগ দেওয়া উচিত।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গত প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রভূত অগ্রগতি হয়েছে এবং এখনো তা চলমান।

কিন্তু এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মাঝেমধ্যে উপাচার্যসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলোতে নিয়োগ দীর্ঘসূত্রিতার ঘটনা ঘটছে।

ফলে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে তাই নয়, শিক্ষা ও গবেষণার অগ্রগতিও ব্যাহত হচ্ছে বলে আমরা মনে করি।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন তাঁর বিচক্ষণ নেতৃত্ব ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে একটি সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে গেছেন।

ঠিক তখন একটি মহল তাঁর অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ও তাদের অসাধু উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ ধরণের নিয়োগাদেশ প্রদানের মাধ্যমে  বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।

/রিদ

সর্বশেষ

Leave a Reply