সাঁকোতে অভাব পাড়ি

ওয়াফা রিমু

পাঁচ সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে টানাটানির সংসার শিরো মিয়ার। অভাব ঘুচাতে এদিক ওদিক থেকে টাকা জোগাড় করে বড় ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন সৌদি আরবে। কিন্তু ছেলের রোজগার নেই।

অভাব আর আয় রোজগারহীন পরিবারে আসলো আরেক ধাক্কা। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যান শিরো মিয়া। প্রায় অচল হয়ে পড়ে ডান হাত ও পা।

কী করবেন, কোথায় যাবেন ভেবে চোখে অন্ধকার দেখছিলেন। শেষমেষ কঠোর পরিশ্রম করে তৈরি করলেন একটি সাঁকো। আর এই সাঁকোই শিরো মিয়া অভাবের সংসারে নিয়ে আসে কিছুটা স্বচ্ছলতা।

শুধু শিরো মিয়া নন, শুকনো মৌসুমে এই সাঁকোই অনেক হতদরিদ্রদের আয় রোজগারের একমাত্র সম্বল। একেক মৌসুমে একেকজন এভাবেই একই স্থানে সাঁকো তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সাঁকোটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলার ফতেহপুর গ্রামসংলগ্ন তিতাস নদীর একটি অংশের উপর তৈরি করা হয়েছে। শুকনো মৌসুমে পানি শুকিয়ে গেলে ওই স্থানে অতিরিক্ত কাদামাটি থাকে। ফলে, মানুষজনের চলাচলে অসুবিধা হয়।

তাই, সাঁকো তৈরি করে সেখানে একদিকে যেমন চলাচলের সুবিধা করা হয়, তেমনি স্থানীয় দরিদ্র অনেকের জীবিকার সংস্থান হয়।

সাঁকোর দৈর্ঘ্য থাকে প্রায় ৪০০ মিটার। এটি ফতেহপুর ও বনিট্টেক দুটি গ্রামকে সংযুক্ত করে। ফলে, এখানকার লোকজন অনায়াসে যাতায়াত করে। প্রতিবার পারাপারের জন্য নেওয়া হয় পাঁচ টাকা।

সাঁকোতে অভাব পাড়ি
সাঁকো দিয়ে আয় রোজগার করা শিরো মিয়া; ছবি: ওয়াফা রিমু

স্থানীয় লোকজন জানান, একেক মৌসুমে একেকজন সাঁকো তৈরি করে টাকা উপার্জন করে। প্রতিদিন ৫০০-৬০০ টাকা আয় হয়। মাঝে মাঝে এক হাজারও হয়।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সাঁকোর এক পাশে বসে চলাচল ফি আদায় করা হয়।সাঁকো তৈরি করতে লাগে প্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকা। বর্ষাকালে সাঁকো উঠিয়ে নেওয়া হয়।

বর্তমানে শুকনো মৌসুমে সাঁকো তৈরি করে আয় রোজগার করছেন আব্দুল্লাহ নামের একজন হতদরিদ্র ব্যক্তি। তবে কিছুদিন আগে সেখান থেকে আয় রোজগার করেছেন শিরো মিয়া।

তিনি এমসিজে নিউজকে বলেন, অভাবের তাড়নায় ছেলেমেয়েদের পড়াতে পারেননি। সংসার কিভাবে চালানো যায়, তা-ই ছিল তাঁর দিনরাতের চিন্তা। বড় ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছেলেন। কিন্তু ছেলে কোনো টাকা পাঠান না।

সেখানে তার কোনো কাজ নেই। এর মধ্যে নিজের অসুস্থতা। উপায়ন্তর না দেখে তিনি সাঁকো তৈরি করে টুকটাক আয় রোজগার করা শুরু করেন। এতে কিছুটা অভাব দূর হয় তাঁর।

শিরো মিয়া বলেন, সাঁকোই ছিল তাঁর উপার্জনের একমাত্র সম্বল। নিজের অসুস্থতার চিকিৎসা ও পরিবারের জীবিকা নির্বাহ-সবকিছু চলেছে সাঁকোর আয়ে। বর্তমানে তিনি তা আব্দুল্লাহর কাছে হস্তান্তর করেছেন। তিনি বর্তমানে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

 

সর্বশেষ

Leave a Reply