আফগানিস্তানের সাবেক মন্ত্রী জার্মানিতে ডেলিভারি ম্যান

সাঈদ সাদাত ছিলেন আফগানিস্তান সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী। সে দায়িত্ব ছেড়ে সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় গত বছরের ডিসেম্বরে পাড়ি জমিয়েছিলেন জার্মানিতে।

কিন্তু বর্তমানে তিনি জার্মানির পূর্ব শহর লাইপজিগে কাজ করছেন ডেলিভারি ম্যান হিসেবে।

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থাকা ৪৯ বছর বয়সী সাবেক আফগান এই মন্ত্রী নিজের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলেন, মন্ত্রীপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে মতবিরোধ হওয়ার কারণে তিনি আফগানিস্তান সরকার থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। এরপর ২০২০ সালের শেষের দিকে তিনি জার্মানিতে স্থানান্তরিত হন।

আইটি এবং টেলিযোগাযোগ বিদ্যায় ডিগ্রিধারী সাইদ সাদাত চেয়েছিলেন জার্মানিতে টেলিকম এবং আইটি খাতে নিজের ক্যারিয়ার সাজাতে।

কিন্তু জার্মান নাগরিক না হওয়ায় তার সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তাই শেষতক বেছে নেন এই ডেলিভারি ম্যানের কাজ৷ তবে এ কাজ পেতেও তাকে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে।

সাদাত বলেন, খালি নাগরিকত্বই নয়৷ এখানে ভাষাটাও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারগুলোর মধ্যে অন্যতম। আর তাই প্রতিদিন তিনি খাবার ডেলিভারির কাজে নামার আগে এই গ্রীষ্মের শুরু থেকে প্রতিদিন একটি ভাষা শেখানোর স্কুলে চার ঘন্টা জার্মান ভাষা শেখেন।

পাশাপাশি শহরের অধিক যানবাহনের মাঝে নিজের সাইকেল চালানো শেখার চ্যালেঞ্জের বর্ণনা করে তিনি বলেন, প্রথম কয়েক দিন বেশ উত্তেজনাপূর্ণ ছিলো। আবার বেশ কঠিনও ছিল। কিন্তু আপনি যত বেশি বাইরে যাবেন, মানুষকে যত বেশি দেখবেন তত বেশি আপনি শিখবেন।

সাদাত আরও বলেন, সরকারের মন্ত্রীত্ব ছেড়ে এমন চাকরি নেওয়ায় তাকে পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে কটু কথাও শুনতে হয়েছে। তবে তার কাছে এখন আর কোনো কাজই ছোট না। সব চাকরিই চাকরি।

তবে তার এই বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরাই এখন তালেবানরা আফগানিস্তান দখলের পর দেশ ত্যাগ করতে চায়। তাদের কেউ কেউ এখন দেশটির অন্যান্য হাজার হাজার নাগরিকের মতো শরনার্থী বহনকারী ফ্লাইটে উঠে বসছে। আবার কেউ দেশ ত্যাগে অন্য কোনো পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

জার্মানির অভিবাসন ও উদ্বাস্তু ফেডারেল অফিসের তথ্য মতে, মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণার পর থেকে আফগান নাগরিকদের জার্মানিতে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ১৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।

আল জাজিরা ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন মোদাব্বির হাশমী।

আরও পড়ুন:

নাচের দৃশ্যটি তালেবানের নয়

আফগানিস্তান; অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত

 

সর্বশেষ

Leave a Reply