কুবিয়ান এসআইয়ের চোখে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি

বাংলাদেশ পুলিশের উপ-পরিদর্শক পদে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লিখেছেন ৩৮তম বহিরাগত ক্যাডেট এসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পাওয়া তানভীর আহতাম শাওন। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন৷

যারা পুলিশের উপ-পরিদর্শক পদে পরীক্ষা দিবেন, তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে মাঠ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাশাপাশি চাকুরি কতটা স্বচ্ছ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হয়, এটিও মাঠ পরীক্ষার ধরণ দেখে তাদের উপলব্ধি হয়েছে বা হবে বলে আমার বিশ্বাস।
এবার লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে সামান্য কিন্তু  গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা লিখবো৷
প্রথমত, মাথায় রাখবেন আপনাকে সব বিষয়ে আলাদাভাবে পাশ করতে হবে। পাশ মার্ক ৫০ শতাংশ, তবে পুলিশের বিভাগীয় পরীক্ষাগুলোতে ষাট শতাংশ নাম্বার লাগে। তাই আপনার উচিত হবে ৬০ শতাংশ মার্ক অর্জনের লক্ষ্য রাখা।
দ্বিতীয়ত, মেধা তালিকায় ভাল অবস্থানে থাকতে হলে গণিতে পূর্ণ মার্ক অর্জন করার বিকল্প নাই। সহজ কথা, গণিত মিস তো আপনার পুলিশ হবার সম্ভাবনা ক্ষীণ। গণিতের জন্য বিগত সালের প্রশ্ন সাথে বিসিএস লিখিত  গণিতগুলো ভাল করে করবেন। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেনীর গণিত বেশি বেশি অনুশীলন করতে হবে (সরল, সুদ-কষা, শতকরা, নৌকা স্রোত, ঐকিক নিয়ম, পরিমিতি, কাজ-দুরত্ব-সময় ইত্যাদি)। তবে এ বছর বীজগণিত আসার সম্ভাবনা আছে। টুকটাক দেখে যাবেন।
তৃতীয়ত, আপনাকে অবশ্যই সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলোর প্রতি বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নাম্বার বেশি পাওয়ার জন্য সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের বিকল্প নাই। (সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন হল- বাগধারা, বাক্যসংকোচন, phrase and idioms, appropriate preposition ইত্যাদি)।
চতুর্থত, রচনার জন্য বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ অতি গুরুত্ব দিবেন। সাথে সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়েও রচনা আসতে পারে। যেমন, সড়ক দুর্ঘটনা, পণ্য ভেজাল, মেগা প্রজেক্ট, পরিবেশ জলবায়ু, ভিশন-২১/৪১, মানবিক পুলিশ, সন্ত্রাস দমন, ডিজিটাল বাংলাদেশ, করোনা ইস্যু ও বাংলাদেশ ইত্যাদি রচনা বাংলা ও ইংরেজি হিসেবে আসতে পারে।
আবার রচনার জন্য যত বেশি উদ্ধৃতি, সংখ্যা ভিত্তিক ডাটা ব্যবহার করবেন তত বেশি নাম্বার পাবেন। এক্ষেত্রে  হাইলাইট করার জন্য নীল কলম ব্যবহার করতে পারেন।
বাংলা ইংরেজি অনুবাদ দিয়ে বেশি নাম্বার অর্জন করা যায়। এক্ষেত্রে সরাসরি অনুবাদ না করে ভাবানুবাদ করে লিখলে লেখার মান ভাল হবে। সব রকম পত্র/দরখাস্তের ফরম্যাট দেখে যাবেন।
পঞ্চমত, সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো ভাল করে পড়তে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত সরকারের অর্জন, দেশের অর্জন, মেগা প্রকল্প, বর্তমান সরকারের সফলতা, পুলিশের সফলতা, জরুরী সেবাসমূহ, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, অপারেশন, গুরুত্বপূর্ণ দিবসসমূহ, অর্থনৈতিক সাফল্য/সমীক্ষা, আদশুমারি, কৃষিশুমারী, ডিজিটাল বাংলাদেশ, তথ্য প্রযুক্তি খাতে সাফল্য, সাম্রতিক সময়ে মৃত্যুবরন করা বিশেষ ব্যক্তিত্বদের জীবনী, জি আই পন্য, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার ইত্যাদি দেখে নিতে পারেন।
আন্তর্জাতিক চুক্তি, যুদ্ধ, আফগানিস্তান ইস্যু, ফিলিস্তিন ইস্যু, নোবেল পুরষ্কার, করোনা ইস্যু, রাজনৈতিক ইস্যু, অর্থনৈতিক ইস্যু, কাতার বিশ্বকাপ, গত ৩/৪ মাসের কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স থেকে আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো দেখে নিতে পারেন।
মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মনস্তাত্ত্বিক খাতা আগে দেখবে। এখানে পাশ না করলে আপনার অন্য খাতাগুলো আর দেখার প্রয়োজন পড়বে না। মনস্তাত্ত্বিকের জন্য কোন সিলেবাস নাই। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কমন সেন্স। মাথা ঠান্ডা রেখে দ্রুত উত্তর দিতে হবে। এখানে প্রতি সেকেন্ড সময় অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
এ পরীক্ষার দিন আপনি খাতা পরীক্ষা শুরুর আগে এমনভাবে প্রস্তুত করবেন, যাতে মার্জিন বা নাম্বারিং করতে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না হয়। যে কয়টা আগে পারবেন সেগুলোর উত্তর লিখে পাশ মার্ক আগেই তুলে ফেলবেন, তারপর বাকীগুলো উত্তর করবেন। বিসিএসের বিগত সালের মনস্তাত্ত্বিকগুলো অনুশীলন করে যাবেন।
প্রস্তুতির জন্য ওরাকল, প্রফেসরের সাব ইন্সপেক্টর নিয়োগ সহায়িকা, বিসিএসের বিগত সালের প্রশ্ন, বিগত ৪/৫ মাসের কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ইত্যাদি কাজে লাগবে।
সর্বোপরি, পরীক্ষার হলে প্রতিটি প্রশ্ন ভাল করে পড়বেন। কি চাইছে সেটা দেখে উত্তর দিবেন। হুড়োহুড়ির কোনো প্রয়োজন নাই, যত বেশি সংখ্যাত্ত্বক ডেটা বা উদ্বৃতি ব্যবহার করবেন তত লেখার মান ভাল হবে।

 

তানভীর আহতাম শাওনের এসআই পরীক্ষার প্রস্তুতি ও এসআই হওয়ার পেছনের গল্প পড়তে দেখুন:

আমি সমাবর্তনে যাইনি আত্মসম্মানের জন্য

সর্বশেষ

Leave a Reply