না ফেরার দেশে শেন ওয়ার্ন, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ক্রিকেটার লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন আর নেই । থাইল্যান্ডে হৃদরোগের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছেন শেন ওয়ার্নের ম্যানেজার জেমস এরসকাইন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫২ বছর।
শেন ওয়ার্নের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে জেমস এরসকাইন গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, শুক্রবার, ৪ মার্চ থাইল্যান্ডের কুহ সামুইয়ে শেন ওয়ার্ন মারা গিয়েছেন৷ ধারণা করা হচ্ছে, তিনি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শেন ওয়ার্নকে অচেতন অবস্থায় তার বাগানবাড়িতে পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকেরা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাকে ফেরাতে পারেননি৷
এদিকে শেন ওয়ার্নের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাঙ্গনে।
তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে নিজের টুইটার একাউন্টে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার বলেন, খুব তাড়াতাড়ি ক্রিকেটের দুইজন মহারথীকে হারালাম আমরা৷ এটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। আমার প্রার্থনা ও ভালোবাসা মার্শ ও ওয়ার্নের পরিবারের জন্য৷ আমি এটা বিশ্বাস করতে পারছি না। শান্তিতে থেকো৷ তোমাদেরকে মিস করবো।
না ফেরার দেশে শেন ওয়ার্ন, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
শেন ওয়ার্নের মৃত্যুতে ডেভিড ওয়ার্নারের টুইট
শেন ওয়ার্নের মৃত্যুতে শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারা টুইটারে লিখেছেন, বন্ধু ও কিংবদন্তি শেন ওয়ার্নের খবর শুনে আমি হতবিহ্বল, বাকরুদ্ধ। বিশ্বাস করতে পারছি না।
না ফেরার দেশে শেন ওয়ার্ন, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
শেন ওয়ার্নের মৃত্যুতে কুমার সাঙ্গাকারার টুইট
উল্লেখ্য, বলের ঘূর্ণিতে ক্রিকেট বিশ্ব মাতানো শেন ওয়ার্নের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ১৯৯২ সালে ২ জানুয়ারি, ভারতের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে। ১৪৫ টি টেস্ট ম্যাচের ২৭৩ টি ইনিংসে তিনি শিকার করেছেন ৭০৮টি উইকেট। ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন ৩৭ বার এবং ১০ উইকেট নিয়েছেন ১০ বার।
তাছাড়া তিনি ব্যাটিংয়েও ছিলেন কার্যকরী।লোয়ার অর্ডারে ১৯৯ ইনিংসে ব্যাট করে করেছেন ১২ টি হাফ সেঞ্চুরি, টেস্ট ক্যারিয়ারে ৩০০০ এর বেশি রান করেছেন।
২০০৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। ২০০৭ সালের ৩ ডিসেম্বর ‪‎মুরালিধরন‬ তাকে টপকাবার আগ পর্যন্ত তিনিই ছিলেন টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি।
টেস্টের পাশাপাশি ওয়ানডেতেও উজ্জ্বল ছিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সাদা বলে ১৯৪ ম্যাচ খেলে ২৯৩ টি উইকেট নেন তিনি। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করেই ১৯৯৯ বিশ্বকাপ জিতে অস্ট্রেলিয়া। যেখানে তিনি সেমিফাইনাল ও ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। ১৯৯৩ সালে মাইক গ্যাটিংকে আউট করা তার বলটিকে গত শতাব্দীর সেরা বল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 

/হাশমি, জাভেদ

সর্বশেষ

Leave a Reply