ছয় মাসের শিশুকে নিয়ে ভর্তিযুদ্ধে মা

আসিফ মাহমুদ

ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে চিন্তিত অভিভাবকদের পায়চারী খুবই পরিচিত দৃশ্য। সবাই উৎকণ্ঠায় থাকে কখন শেষ হবে পরীক্ষা, কখন বের হবে পরীক্ষার্থী। এমনই শত শত চিন্তিত মুখের  আজ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা মিললো ছ’মাসের শিশু হাসিনা বিন তাহাবিবের।
চাপা গরমে অস্বস্তিতে কাঁদছে সে। অভিভাবকদের জন্য করা প্যান্ডেলে ফ্যানের সামনে তাকে কোলে নিয়ে শান্ত করার চেষ্টায় তার নানু। ভর্তি পরীক্ষার্থী মা আকলিমা ইসলাম তখন পরীক্ষা দিচ্ছেন।
বয়স যখন সবে আঠারো, তখন উচ্চমাধ্যমিকে পড়া অবস্থায় বিয়ে হয় আকলিমার। বিয়ের পর স্বামীর উৎসাহে পড়াশোনা চালিয়ে যান। ২০২১ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হন।
বিয়ের তিন বছর পর জন্ম নেওয়া ছয় মাসের শিশু হাসিনা বিন তাহাবিবকে নিয়ে গুচ্ছ বি ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সাথে নিয়ে আসেন তার মাকে।
শিশু তাহাবিবকে মায়ের কোলে রেখে সাড়ে ১১ টার দিকে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এসময় আকলিমার মায়ের সাথে কথা বলে জানা যায়, মেয়ের পড়াশোনার প্রতি ঝোঁক আর জামাইয়ের আগ্রহ থেকেই আজ এতদূর আসা। বিয়ের পর পড়াশোনা কঠিন। তারপরও আমার মেয়ের জামাই সবসময় চাইতো যে ও পড়াশোনা করুক। ওকে সময় দিবে বলে ঢাকা থেকে ট্রান্সফার নিয়ে নিজ এলাকা লাকসামে আসেন। এখানে এলজিইডিতে তিনি একজন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন।
মেয়ে যখন আমাদের এখানে আসতো, তখন তার বাচ্চার দেখাশোনা আমরা করতাম। আর শ্বশুরবাড়িতে তাকে বেশি সময় দিত আকমল মানে মেয়ের জামাই। মূলত আমরা সবাই চাই ও পড়াশোনা করুক।
পরীক্ষার পরিবেশ দেখে খুব খুশি হাসিনা বিন তাহাবিব এর নানু। গুচ্ছতে হয়রানি কম। চান্স পেলে এখানে ভর্তি করাবেন বলে জানান।
পরীক্ষা শেষে আকলিমা ইসলামের কাছে তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা জানতে চাইলে বলেন, আমার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ চান্স পাওয়াইলে এখানেই ভর্তি হবো। অনেকটুকু পথ এসেছি। আপনাদের দোয়ায় বাকিটা পথ যেতে চাই।

সর্বশেষ

Leave a Reply