পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশি হাজীরা। স্বজনদের সঙ্গে পুনর্মিলনের এই মুহূর্তে বয়স্ক ও ক্লান্ত হাজীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশ স্কাউটস-এর রোভার স্কাউট সদস্যরা। তাঁদের মধ্যেই আছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের দুই প্রতিনিধি সাইফুল মালেক আকাশ ও সাজিদুর রহমান।
‘হজ ক্যাম্প ২০২৫’-এর আওতায় ১০ জুন থেকে শুরু হওয়া ফিরতি কার্যক্রম চলবে ১১ জুলাই পর্যন্ত। এ সময় ২৩ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করেন কুবি রোভার গ্রুপের এই দুই সদস্য। হাজীদের পথ দেখানো, শৃঙ্খলা বজায় রাখা, হুইলচেয়ারে সহায়তা, ব্যাগ বহন কিংবা জমজমের পানি পৌঁছে দেওয়ার মতো কাজ করছেন তাঁরা নিঃস্বার্থভাবে।
রোভার সাইফুল মালেক আকাশ বলেন, “ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হজ। এই পবিত্র ইবাদত শেষে দেশে ফেরা হাজীদের সেবা করতে পারা নিঃসন্দেহে আমার জীবনের এক মহামূল্যবান অভিজ্ঞতা। আমি নানা রকম বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি হজ ক্যাম্পে কাজ করে। প্রতি বছর আমাদের ইউনিট এই দায়িত্ব পালন করে থাকে। এবছর আমাকে সুযোগ দেওয়ায় আমি কৃতজ্ঞ আমার রোভার ইউনিটের প্রতি।”
প্রথমবারের মতো হজ ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকারী সাজিদুর রহমান অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “হজ ক্যাম্পে হাজীদের সেবা করার সুযোগ পাওয়া সত্যিই আনন্দের ও গর্বের। সম্মানিত হাজীদের পাশে থেকে কাজ করতে পারা এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা। আমি এখানে এসে অনেক কিছু শিখছি। আমার ইউনিটকে ধন্যবাদ জানাই আমাকে এই দায়িত্বের অংশীদার করার জন্য।”
এই দুই তরুণের কাজের প্রশংসা করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের সিনিয়র রোভারমেট মোহাম্মদ বাবুল মিয়া বলেন, “একজন রোভারের জীবনে সবচেয়ে বড় স্বপ্ন থাকে জীবনে একবার হলেও হজ ক্যাম্পে হাজীদের সেবা করার সুযোগ পাওয়া। প্রতি বছরের মতো এবারও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপ থেকে সদস্যরা এই মহৎ দায়িত্ব পালন করছে। সাইফুল মালেক আকাশ এবং সাজিদুর রহমানের নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতায় আমাদের ইউনিটের সুনাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এভাবেই রোভাররা সেবার মাধ্যমে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ছড়িয়ে দেবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
হজের পবিত্রতা ও আত্মত্যাগের প্রতিফলন যেন স্পষ্ট আকাশ ও সাজিদের কাজে। নিঃশব্দে, নিঃস্বার্থে ও আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করা এই তরুণ রোভারেরা শুধু স্কাউট আন্দোলনেরই নয়, মানবিকতারও এক উজ্জ্বল প্রতীক।
এ এম /সাজিদুর রহমান