MCJ NEWS

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এ পরিবারের ওপর আঘাত মানেই আমাদের সবার ওপর আঘাত’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো: কামরুল হাসান কর্তৃক সহকারী প্রক্টর ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুতাসিম বিল্লাহকে হুমকি, মিথ্যা অভিযোগ ও পত্রিকায় মিথ্যাচার করার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা “আদু ভাইয়ের ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না”, “অছাত্রের সন্ত্রাস আমরা মানবো না”, “হাসান কামরুলের কালো হাত ভেঙে দাও” এবং “বেহাইয়া কামরুল ক্যাম্পাসে কেন? প্রশাসন জবাব চাই” শ্লোগান দেন।

এ সময় নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো: মুহসিন জামিল বলেন, হাসান কামরুল বিভিন্ন সময় নানা ইস্যু নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে চায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপে তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন প্রোপাগাণ্ডা ছড়ান। মুতাসিম বিল্লাহ স্যারসহ যেসব শিক্ষককে তিনি মানহানি করেছেন, তাদের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। পাশাপাশি, হাসান কামরুলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সামনে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। নতুবা তাকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার দাবি জানানো হচ্ছে।”

গণিত বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হান্নান রহিম বলেন, সেদিন, যখন মুতাসিম বিল্লাহ স্যার হাসান কামরুলকে জানাচ্ছিলেন যে স্টেজে ওঠা সম্ভব না, তখন হাসান কামরুল স্টেজের সাথেই ছিলেন এবং তিনি বলে ওঠেন— ‘প্রশাসনকে দেখে নেব, প্রো-ভিসিকে দেখে নেব।’ আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। পাশাপাশি, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।”

এই ঘটনার বিচার দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-মামুন চৌধুরী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী। এই পরিবারের ওপর যখন আঘাত আসে, তা আমাদের সবার ওপরই আঘাত হিসেবে লাগে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকতায় অনেকে আসেন পেশা হিসেবে, কিন্তু কারও কাছে এটি এর চাইতেও বেশি কিছু। আবেগ, চিন্তার স্বাধীনতা, জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার আনন্দ এসব তারা উপভোগ করেন। মুতাসিম স্যার তেমনই একজন। স্যারের সঙ্গে হওয়া অন্যায় আচরণকে নিন্দা না করলে নিজেকে অপরাধী মনে হবে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”

উল্লেখ্য , গত ১১ জুলাই ‘স্মৃতির মিনার’ অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের আগমনে ফুল দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র সহকারী প্রক্টর মুতাসিম বিল্লাহকে হত্যার হুমকি দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে ক্যাম্পাসে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। ঘটনার পরের দিন মুতাসিম বিল্লাহ কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এএম/সুদীপ্ত সাহা, নিলয় সরকার

শেয়ার করুন -