MCJ NEWS

ডিজিটাল নাগরিকতা ও অপতথ্য যাচাইয়ে কুবি শিক্ষার্থীদের গ্রামভিত্তিক ক্যাম্পেইন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল নাগরিকতার ধারণা, অপতথ্য ও ভুল তথ্যের ক্ষতিকর দিক এবং তথ্য শেয়ার করার আগে যাচাই-বাছাইয়ের গুরুত্ব নিয়ে গ্রামভিত্তিক উঠান বৈঠক ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছেন।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সালমানপুর মধ্যমপাড়ায় মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী নারী, পুরুষ ও যুবকদের অংশগ্রহণে এই উঠান বৈঠক ও ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।

বর্তমান সময়ে নিরক্ষর মানুষের পাশাপাশি সচেতন ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যেও অপতথ্য ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য পেলেই যাচাই না করে শেয়ার করার ফলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিওকে সত্য ভেবে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল নাগরিকতা ও অপতথ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে ব্রিটিশ কাউন্সিল ও ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ULAB)-এর সহযোগিতায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ‘ডিজিটাল নাগরিকতা, মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন ও অপতথ্য যাচাই’ বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় ডিজিটাল জগতে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আচরণ, তথ্য যাচাইয়ের কৌশল, ভুয়া খবর চিহ্নিত করার পদ্ধতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিরাপদ ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়। ক্যাম্পেইনটিকে আরো বেশি আকর্ষণীয় ও দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখতে শিক্ষার্থীরা গেইমের ব্যবস্থা করে। আলোচনার পরে প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে ৩ জনকে পুরষ্কৃত করা হয়। প্রায় ৮০জন নারী, শিশু ও যুবকের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণে ক্যাম্পেইনটি হয়ে উঠেছিল সবার জন্য আনন্দদায়ক।

আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক হয়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও গ্রাম ও প্রান্তিক পর্যায়ে এমন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মামুন চৌধুরী বলেন, “বর্তমান সময়ে ভুল তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি। অনলাইন স্পেসে আমরা সবাই ভোক্তা। চারপাশে এত অপতথ্য থাকলে আমরাই এর শিকার হয়ে পড়ি, যা ইতোমধ্যে ঘটছে। তাই জনগণের সুরক্ষায় এই ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়েছে। এতে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হবে এবং তথ্য যাচাই করে মূল্যায়ন করার মানসিকতা গড়ে উঠবে।”

/কাজী ফাহমিদা কানন

শেয়ার করুন -