
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ফটোগ্রাফিকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয়েছে এক বর্ণাঢ্য ‘ফটো কনটেস্ট’ অনুষ্ঠান।
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে সৃজনশীলতার এক প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশক ড. নাহিদা বেগম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মশিউর রহমান এবং অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক মো. সাদিকুজ্জামান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, “ছবি হলো সৃষ্টিশীলতার প্রকাশ। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত এক ছোট ছেলের ছবি পুরো আন্দোলনের গতিপথ বদলে দিয়েছিল। একটি শক্তিশালী ছবি সমাজ ও ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “লেখাপড়ার পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ ছাত্র হয়ে উঠতে হলে সকল ধরনের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা জরুরি।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, “যখন কোনো ছবি একটি ভালো উদ্দেশ্যে তোলা হয়, সেটিও এক ধরনের ইবাদত। কিন্তু বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ছবি তোলা হয় কেবল ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে। মনে রাখতে হবে, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করাটাই প্রকৃত বিজয়।”
ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশক ড. নাহিদা বেগম বলেন, “ছবি শুধু ছবি নয়, ছবির কাজ চোখের সাথে নয়; মনের সাথে। তিনি ফটোগ্রাফিকে সাহিত্যের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “নাটককে যেমন দৃশ্যকাব্য বলা হয়, ছবিকে তেমনি বলা যায় ‘মুহূর্তের কাব্য’।”
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক মো. সাদিকুজ্জামান জানান, এবারের ফটো কনটেস্টে মোট ২৫৬টি ছবি জমা পড়ে। সেখান থেকে দুই ধাপে ১৫টি ছবি চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য নির্বাচন করা হয়। প্রথম ধাপে লাইক ও কমেন্টের ভিত্তিতে এবং দ্বিতীয় ধাপে বিচারকদের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়। তিনি বলেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের আয়োজন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ১৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার লাকি। দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন সিএসই বিভাগের ১২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মো. নুরনবী নাইম এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন আইন বিভাগের ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন রায়হান।
প্রথম স্থান অর্জনকারী শারমিন আক্তার লাকি বলেন, “মূলত আমার বন্ধু অপুর অনুপ্রেরণায় আমি এই ফটো কনটেস্টে অংশগ্রহণ করি। সব মিলিয়ে অনুভূতি ভালো ছিল। তবে প্রচুর বট রিয়্যাক্টের কারণে একপর্যায়ে ছবিটি মুছে ফেলতে চেয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, এখন আমি প্রথম হয়েছি এটি সত্যিই আনন্দের।”
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগ ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের নানামুখী প্রতিভা বিকাশে আরও অনুপ্রেরণা জোগাবে।
এফকে/ সাগর, সাথী, সুমাইয়া, বৃষ্টি