MCJ NEWS

সবুজ পাতার ফাঁকে সৌরভ ছড়াচ্ছে আমের মুকুল

বসন্ত এলেই প্রকৃতির রঙ বদলে যায়। শীতের নীরবতা ভেঙে চারপাশে শুরু হয় নতুন প্রাণের উচ্ছ্বাস। আর এই সময়টার সবচেয়ে পরিচিত দৃশ্য গাছে গাছে আমের মুকুল। গ্রামের পথ ধরে হাঁটলে, উঠোনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আমগাছের ডালে ডালে যখন ছোট ছোট হলুদাভ মুকুল ফুটে ওঠে, তখন মনে হয় প্রকৃতি যেন নিজেই হাসছে।

বাংলাদেশে আম শুধু একটি ফল নয়, এটি একটি আবেগ, একটি ঐতিহ্য। বিশেষ করে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও দিনাজপুর অঞ্চলে আম চাষকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এক বিশাল অর্থনৈতিক কাঠামো। তবে সেই স্বপ্নের শুরুটা হয় এই ছোট্ট মুকুল থেকেই।

ফাল্গুন-চৈত্র মাসে আমগাছে যখন মুকুল আসে, কৃষকের মনে তখন নতুন আশার সঞ্চার হয়। কারণ এই মুকুলই কয়েক মাস পর রূপ নেবে রসালো আমে। একটি গাছে যত বেশি মুকুল, ফলনের সম্ভাবনাও তত বেশি। তাই কৃষকেরা এই সময় গাছের বিশেষ যত্ন নেন পোকামাকড় দমন, সঠিক সার প্রয়োগ ও সেচ নিশ্চিত করা হয় নিয়মিত।

একজন আমচাষির ভাষায়, “মুকুল দেখলেই মনে হয় আমাদের বছরের পরিশ্রম সার্থক হবে।” সত্যিই, একটি মুকুলের সাথে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের স্বপ্ন, সন্তানের পড়াশোনা, সংসারের খরচ, সবকিছু!

আমের মুকুল শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি পরিবেশেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মুকুলে ভনভন করে ঘুরে বেড়ায় মৌমাছি। এই মৌমাছিরাই পরাগায়নের মাধ্যমে ফলন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ফলে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় মুকুলের ভূমিকা অপরিসীম।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও মুকুলের ক্ষতি হচ্ছে। অকাল বৃষ্টি বা অতিরিক্ত কুয়াশায় অনেক সময় মুকুল ঝরে পড়ে। ফলে প্রত্যাশিত ফলন পাওয়া যায় না। তাই কৃষিবিদরা এখন উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদের পরামর্শ দিচ্ছেন।

ভোরবেলা গ্রামের পথে হাঁটলে মুকুলের মিষ্টি গন্ধ মনকে ভরে তোলে। উঠোনে খেলা করা শিশু, খেতের কাজে ব্যস্ত কৃষক, আর গাছের ডালে ঝুলে থাকা মুকুল—সব মিলিয়ে এক অপূর্ব দৃশ্য। শহরের ব্যস্ত জীবনে হয়তো এই সৌন্দর্য খুব একটা চোখে পড়ে না, কিন্তু গ্রামে এটি যেন জীবনেরই অংশ।

গাছে গাছে আমের মুকুল মানেই বসন্তের আগমনী বার্তা, মানেই নতুন আশার আলো। এই ছোট্ট মুকুলের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে এক বিশাল সম্ভাবনা। তাই মুকুল ফুটলে শুধু গাছই নয়, মানুষের মনও ফুলে ওঠে আনন্দে

এফকে/ নুসরাত জাহান অনু

শেয়ার করুন -