MCJ NEWS

এক কাপ চা, হাজার বছরের ইতিহাস ও ভালোবাসা

‎ঘুমভাঙা সকাল,  ক্লান্ত দুপুর কিংবা বিকেলের আড্ডায় এক কাপ চা যেন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।  কারও কাছে চা মানে সতেজতা,কারও কাছে চা মানে অভ্যাস, কারও কাছে অনুভূতি। আবার কারও কাছে চা সংস্কৃতির প্রতীক। প্রতি বছর ২১ মে সারা পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পরিচিত এই  পানীয়কে ঘিরেই পালিত হয় আন্তর্জাতিক চা দিবস।
‎ জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) চায়ের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালন করে আসছে।  চা শিল্পের সাথে  জড়িত শ্রমিক, চাষি এবং উৎপাদকদের অধিকার ও উন্নয়ন এই দিবসটির মূল উপলক্ষ্য।

‎চায়ের ইতিহাস  হাজার বছরের পুরোনো। ধারণা করা হয়, চায়ের প্রচলন শুরু হয় প্রাচীন চীনে। চায়ের আবিষ্কারকে কেন্দ্র করে জনপ্রিয় লোককাহিনী রয়েছে। বলা হয়ে থাকে খ্রিষ্টপূর্ব ২৭৩৭ সালে চীনের সম্রাট শেন নং একদিন গরম পানি পান করছিলেন। হঠাৎ কিছু বুনো চা-পাতা পানিতে উড়ে এসে পড়ে । সেই পানীয় পান করে তিনি সতেজতা অনুভব করেন। তখন চা ভেষজ ঔষধ হিসেবে ব্যবহার হতো। এভাবেই চা পান জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তারপর ধীরে ধীরে এটি  ভারত, জাপান, মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পৃথিবীর জনপ্রিয় পানীয়গুলোর  মধ্যে চা একটি।
‎বাংলাদেশেও  চায়ের বহু বছরের ঐতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। এই দেশের  সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে বিস্তৃত চা-বাগান রয়েছে।  যা শুধু বাংলাদেশের অর্থনীতিরই নয়, বরং  পর্যটন ও সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চা শিল্পের সাথে জড়িত।

‎চা শুধু একটি পানীয় নয়। এটি স্মৃতি, সম্পর্ক আর অনুভূতির নাম। কখনো বৃষ্টিভেজা বিকেল, কখনো প্রিয় মানুষের সাথে দীর্ঘ আলাপ, সবকিছুর সাথেই যেন জড়িয়ে থাকে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা।বাংলাদেশের  চায়ের দোকানগুলো  এক ধরনের সামাজিক কেন্দ্র। এক কাপ চা হাতে নিয়ে চলে  রাজনীতি,অর্থনীতি,খেলাধুলা, সাহিত্যচর্চা, সামাজিক সমস্যা  কিংবা বন্ধুত্বের গল্প।

‎চা এর অনেক কদর থাকলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত চা পান শরীরের জন্য উপকারী। স্বাস্থ্যসচেতনদের কাছে গ্রীন টি একটি পরিচিত নাম। তবে মাত্রাতিরিক্ত চা পান করতে সতর্ক করেন চিকিৎসকেরা। কারণ এতে অনিদ্রা বা এসিডিটি হতে পারে।

‎চায়ের ইতিহাস – ঐতিহ্যের  আড়ালে রয়েছে হাজারো শ্রমিকের কঠোর পরিশ্রম। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে চা শ্রমিকেরা এখনও কম মজুরি পায়। তাদের প্রাপ্ত  মজুরির পরিমান এতই যৎসামান্য যে তাদের নিত্যদিনের খাদ্যের যোগান দেওয়াই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে । এছাড়াও শ্রমিকেরা  স্বাস্থ্যসেবা সংকট এবং শিক্ষা-সুবিধার অভাবের মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়।

‎তাই বিশ্ব চা দিবসে  শুধু চায়ের স্বাদ উদযাপন নয়, বরং এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষদের জীবনমান নিয়ে ভাবাও জরুরি।


‎এফকে/শামিম আহমেদ

শেয়ার করুন -