২০২৪ সালের জুলাই মাস ক্যালেন্ডারে ৩১ দিন হলেও ইতিহাসে তা হয়ে গেছে ৩৬ দিনের এক রক্তাক্ত অধ্যায়। এই ‘৩৬ জুলাই’ শুধু সময় নয়, একটি আন্দোলনের নাম। একটি প্রজন্মের দ্রোহের প্রতিচ্ছবি, আর একটি জাতির জেগে ওঠার গল্প।কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। পরিণত হয় স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ অভ্যুত্থানে।আন্দোলনে প্রাণ হারায় প্রায় ১৪০০ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। আহত হন আরো হাজার হাজার মানুষ। তাদের রক্ত, সাহস ও আত্মত্যাগেই ভেঙে পড়ে এক স্বৈরশাসকের মসনদ।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে কুমিল্লা কেমন ছিল? দেখুন সাঈদ রিফাত, কাজী ফাহমিদা ও নিলয় সরকারের ক্যামেরায়। যেখানে প্রতিটি ছবির পেছনে লুকিয়ে আছে স্লোগান, আর্তনাদ আর ইতিহাসের নতুন দিগন্ত।
কোটা সংস্কারের উদ্দেশ্যে রাস্তা অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা কোটা বিরোধী আন্দোলন নিয়ে স্লোগানে মুখরিত। আন্দোলন চাঙ্গা রাখতে নজরুলের কবিতা, আমি বেদুইন, আমি চেঙ্গিস আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্নিশ… ২৪ এর অন্যতম প্রধান স্লোগান ছিলো ‘একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার। লাল-সবুজ পতাকা হাতে চলছিল বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নারী পুরুষ সম্মিলিতভাবে কোটা প্রথার বিরুদ্ধে অংশগ্রহণ করে আন্দোলকে আরো বেগবান করে তুলেছিল। আন্দোলনের মূল স্লোগান’ “কোটা না মেধা? মেধা, মেধা।” জুলাইয়ের প্রথম দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচী। তখনও এই আন্দোলন জনমনে বিরক্তি উদ্রেক ঘটাচ্ছিল যা পরে ইতিহাস হয়ে যায়। আন্দোলন ক্রমেই শান্তিপূর্ণ থেকে সহিংসতায় রূপ লাভ করে। পুলিশের রাবার বুলেটের আঘাতে অঝোরে ঝরেছিল রক্ত যেন বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়। গলায় ঝুলছে কলেজের আইডি কার্ড। পুলিশের আক্রমণে আহত বন্ধুকে নিয়ে নিরাপদ জায়গায় যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে প্রতিহত করতে ছাত্রলীগের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা। তার প্রতিবাদে প্ল্যাকার্ড হাতে তীব্র প্রতিবাদ নিয়ে মিছিলে সামিল হয়েছিলেন কুবি শিক্ষার্থীরা। আগুনে পুড়ে ছাঁই হোক বৈষম্য। মুক্তি পাক সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এক প্রতীকী প্রতিবাদের উদাহরণ। কোটি কোটি চোখ তখন বাংলাদেশের রক্তাক্ত শিক্ষার্থীদের দিকে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর স্বৈরাচার সরকারের হামলার প্রতিবাদে প্ল্যাকার্ড হাতে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল স্কুল শিক্ষার্থীরা