MCJ NEWS

কুবিতে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকদের হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। রোববার (২০ জুলাই) সকাল ১১ টায় মানববন্ধনে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠা দুই শিক্ষার্থী হলেন গণিত বিভাগের (২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ) নাদিম রাহুল ও বাংলা বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইউনূস আলী।

এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী চার সাংবাদিক।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) র‍্যাগিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ১২ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার আদেশ দেয় প্রশাসন। তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে একই বর্ষের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীরা রোববার মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এসময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে এমসিজে নিউজ, দ্যা ঢাকা ডায়েরির ক্যাম্পাস, দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস ও ঢাকা প্রকাশের প্রতিনিধি হেনস্থার শিকার হন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ‘তুমি কে, আমি কে – আঠারো, আঠারো’, ‘আঠারো কেন মর্গে, বাকিরা কেন স্বর্গে’, ‘বাতিল, বাতিল চাই, বহিষ্কার বাতিল চাই’ ইত্যাদি স্লোগানে মানববন্ধন শুরু হয়। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ‘গালি’ দেন কয়েকজন মানববন্ধনকারী শিক্ষার্থী। এসময় গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নাদিম রাহুল অপর এক শিক্ষার্থীকে (সাংবাদিক) ‘তুই’ সম্বোধন করে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করতে বললে সাংবাদিকরা তাদের পরিচয় দেন।

তখন ওই শিক্ষার্থী মানববন্ধন থেকে একটু দূরে গিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে অপ্রত্যাশিত মন্তব্য করায় উপস্থিত অন্যান্য সাংবাদিকরাও এগিয়ে এসে জানতে চায় এভাবে কেন কথা বলেছে। আর তখনই মানববন্ধনকারীদের দিক থেকে আরও কিছু শিক্ষার্থী এগিয়ে আসে আক্রমণাত্মকভাবে।

তৎক্ষণাৎ সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাক-বিতন্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইউনূস আলী এক শিক্ষার্থীকে ‘গালি’ দিয়ে তেড়ে আসেন। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে বলেন, ‘তোরা সংবাদ না করলে কি হবে?’

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী দ্যা ঢাকা ডায়েরির ক্যাম্পাস প্রতিনিধি নুুরুল হাকিম বাপ্পি বলেন, ‘আমি পেশাগত দায়িত্ব পালনে গোলচত্ত্বরে গিয়েছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন সাংবাদিক ভাইয়ের সাথে আন্দোলনকারীদের বাক-বিতন্ডা দেখে কি হয়েছে জানতে চাই। এমন সময় তারা ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। শুরুতেই নাদিম নামের ছেলেটা তুই-তুকারি করতেছিল ও ইউনুস আলী এসে সাংবাদিকদের কটুক্তি করে মারতে আসে। দায়িত্বরত সাংবাদিকের উপর এমন হুমকির নিন্দা জানাচ্ছি এবং আশা করি প্রশাসন এর যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন।’

আরেক ভুক্তভোগী সাংবাদিক এমসিজে নিউজের প্রতিবেদক নিলয় সরকার জানান, ‘গোলচত্ত্বরে আমরা সাংবাদিকরা নিউজ কাভারের উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়েছিলাম। তখন ২০২৩-২৪ বর্ষের গণিত বিভাগের একজন শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলে তোরা লাইনে দাঁড়াস না কেন? তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয় আপনি কাদের বলছেন? তিনি বললেন, তোদেরকে বলছি। আমরা সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি বলেন, বলছি তো কি হইছে?’

তারপর উনার কাছে উপস্থিত সাংবাদিকরা মিলে এমন আচরণের কারণ কি জানতে চাইলে ২০২৩-২৪ বর্ষের বাংলা বিভাগের ইউনূস অকথ্য শব্দ উচ্চারণের মাধ্যমে বলে ওঠে, ‘তুই কে?’ এরপর আক্রমণাত্বকভাবে মারতে আসে। যা সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

এ ব্যাপারে অভিযোগ ওঠা শিক্ষার্থী নাদিম রাহুল বলেন, ‘এখানে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়ে গেছে। তারা যে সাংবাদিক বা সিনিয়র ছিল সেটা আমি বুঝতে পারি নাই। আমি মনে করেছি তারা আমার ব্যাচমেট। সেই প্রেক্ষিতে আমি বলেছি তোরা এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন লাইনে গিয়ে দাঁড়া। পরে আমি তাদের কাছে নিজের ভুল স্বীকার করি এবং এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করি।’

প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, ‘আমরা লিখিত অভিযোগপত্র পেয়েছি, আমরা প্রক্টরিয়াল বডি মিটিং করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অভিযোগটি রেজিস্ট্রারের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) র‍্যাগিং এর দায়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাত জন ও মার্কেটিং বিভাগের পাঁচ জন শিক্ষার্থীকে এক সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়। 

এএম/রহমত

শেয়ার করুন -